নরসিংদীর মাধবদীতে রাতে খাবার কিনতে গিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসা হলো না তিন বন্ধুর। তারা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসচাপায় সড়কেই প্রাণ হারিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে একইসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি তিন বন্ধুর কবর দেওয়া হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবদীর রাইনাদি এলাকায় দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- মাধবদীর রাইনাদি এলাকার রবিউল্লাহর ছেলে অটোরিকশা চালক ফাহিম মিয়া (২৮), আলতাফ হোসেনের ছেলে সাব্বির (২৫) ও অজিবর মিয়ার ছেলে সিয়াম (২২)।

হাইওয়ে পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা জানায়, দিনের বেলায় কাজ শেষে রাতে আড্ডা দেওয়া শেষে খাবার কিনতে রাইনাদীর নিজ এলাকা থেকে মাধবদী যান নিহত তিন বন্ধু। সেখান থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অটোরিকশা দিয়ে রাইনাদী এলাকায় বাড়িতে ফিরছিলেন। একই সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস মহাসড়কের রাইনাদী এলাকা অতিক্রম করছিলেন। এসময় বাসটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি একেবারে দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সিয়াম নামে এক যাত্রী মারা যায়। স্থানীয়রা বাকিদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে অটোরিকশা চালক ফাহিম ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিসাধীন অবস্থায় সাব্বির মারা যায়।
নিহতরা নরসিংদীর শেখেরচর ও নারায়ণগঞ্জের বান্টি বাজারের কাপড় দোকানের কর্মচারী ছিলেন। ফাহিম কাপড়ের দোকান ছাড়াও অতিরিক্ত সময়ে মাধবদী শহরে ইজিবাইক চালিয়ে আয়-রোজগার করতেন। উপার্জনক্ষম যুবকদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা।
নিহত ফাহিমের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিকেলে রাইনাদী সামাজিক কবর স্থানে তিন বন্ধুর একই সঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।
ইটাখোলা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে বাসচাপায় তিনজন মারা গেছে। আর ঘাতক বাসকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর মহাসড়কে অটোরিকশা বন্ধে চেষ্টা করে যাচ্ছি।










