বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এএইচএম কামরুল ইসলাম খান। ঘটনাটি বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ঘটেছে।
জানা গেছে, জামায়াত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা এএইচএম কামরুল ইসলাম খানের ছেলে আরাফাত বিল্লাহ খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক।
গত ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সমাবেশে আরাফাত বিল্লাহ খান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের পক্ষে ভোট চান।
সমাবেশে আরাফাত বলেন, ‘আমার বাবা মাওলানা কামরুল ইসলাম খান জামায়াতে ইসলামী থেকে বরিশাল-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু আমি ২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছি। আমি ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলাম। আমি জেনে-শুনে এই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস করি এবং জীবনভর এ আদর্শেই থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ বলে, বিমানের পাইলট ইউটিউব দেখে বিমান চালানো শিখেছে—তবে কি আপনারা সেই বিমানে উঠবেন? আমাদের স্বপন ভাই দুইবারের সংসদ সদস্য, তার অভিজ্ঞতা আছে। তাই আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে অভিজ্ঞ নেতার পাশে থাকব, তাকে বিজয়ী করব।’
পরদিন (৮ নভেম্বর) জামায়াত প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমাকে পিতা পরিচয় দিয়ে ৭ নভেম্বর বিএনপির পক্ষে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাতে কেউ হতাশ হবেন না। আমি চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফিরে আসার পর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেব, ইনশাল্লাহ। আমরা দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে মাঠে নেমেছি, বিজয় আমাদের হবেই।’
তবে এরপর তিনি আরও একটি পোস্ট দেন, যা পরে মুছে ফেলেন। সেই মুছে ফেলা পোস্টের স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি লেখেন ‘আমার বড় ছেলে আরাফাতকে শিবির করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। আমি একজন ব্যর্থ পিতা। আমার বড় ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম, কারণ সে জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান জানান, ‘ফেসবুকে দেওয়া পোস্টগুলো আমারই ছিল। কেন্দ্রের নির্দেশে দ্বিতীয় পোস্টটি ডিলেট করেছি।’










