সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, অভিভাবক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় নয়, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি জীবনে সফল হতে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার এবং কোনো পরিস্থিতিতে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাদকাসক্তির বিষয়ে সতর্ক করে সংসদ সদস্য বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন থেকে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সার্বিক বিকাশ ও চলাফেরার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আদর্শ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, সুযোগ সৃষ্টি হলে সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়কে সরকারি করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাডেমিক অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বাসের ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহিলা হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গান, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরে।
সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লায়ন সাবিনা সিদ্দিকা রিতা, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জোহরা বাশার পলি।
এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেখা আক্তার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।









