1. jahidul.savarnews24@gmail.com : News Editor : News Editor
  2. jahidul.moviebangla@gmail.com : Jahidul Islam : Jahidul Islam
  3. savarnews24@gmail.com : savarnews24 :
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
সাভার নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সবাইকে স্বাগতম >> আপনার আশপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাতে আমাদের মেইল করুন। ই-মেইল : savarnews24@gmail.com

লোকজন এখন বোরহান ভাই বোরহান ভাই বলে ডাকে

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৮ মে, ২০২১
  • ৬২২ বার পড়েছেন

লোকজন এখন বোরহান ভাই বোরহান ভাই বলে ডাকে

শরাফ আহমেদ জীবন। এই নামের সঙ্গে নানাজন নানাভাবেই পরিচিত। তবে জীবন মূলত একজন নির্মাতা। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ছবিয়াল’ দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ‘চৌধুরী সাহেবের ফ্রি অফার’সহ একাধিক দর্শকপ্রিয় নাটকের স্রষ্টা শরাফ আহমেদ জীবন। পরিচালক হিসেবে শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে ‘ঘর নাই’ নাটকের মাধ্যমে। গ্রামীণোফোনের \’আমরা আমরাই তো\’ বিজ্ঞাপনের মতো অসংখ্য দর্শকপ্রিয় বিজ্ঞাপনের নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন।

মাঝেমধ্যে যে অভিনয় করেন না তা নয়- তবে এবার একদম তুমুলভাবে অভিনয়ে আলো কাড়েন ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। এই ধারাবাহিকে বোরহান চরিত্রটি একটি \’ফ্যাক্ট\’ হয়ে দাঁড়ায়। শরাফ আহমেদ জীবন কথা বলেছেন সমসাময়িক কয়েকটি বিষয় নিয়ে।

ব্যাচেলর পয়েন্টে যুক্ত হবার গল্পটা… অমির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। সে আমার ছোট ভাইয়ের মতো। তার কাজ আমি দেখি। কোনো একদিন রাতে চ্যাটিং করছিলাম অমির সঙ্গে। সে বললো ভাইয়া আপনাকে কাজ করতে হবে। আমি বললাম কী কাজ, সে বলল আপনাকে অ্যাক্টিং করতে হবে। বললাম কোথায়? অমি বলল ব্যাচেলর পয়েন্টে। এরপর অনেকদিন কেটে গেল। এরমধ্যে একদিন দেখা হয়ে গেল পলাশের সঙ্গে। নিকেতনে।

পলাশ বলল অমি ভাই আপনাকে খুঁজতেছে। আমি বললাম ঠিক আছে। রাতে পলাশ আবার ফোন দিল। বলল, অমি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। অমি ফোনে বলল, ভাই আপনার জন্য একটা ক্যারেক্টার রাখছি। আপনাকে করতে হবে। আমি ভেবেছি আমার সঙ্গে ফান করছে অমি। রাতে আমাকে ক্যারেক্টারটা বুঝিয়ে দিল সে। বিশ্লেষণ করে দেখলাম ব্যাচেলর পয়েন্টের প্রতিটি চরিত্র তৈরি করা হয়েছে বিশেষভাবে। হাবু, কাবিলা, পাশা ভাই, শুভ, শিমুল- সবগুলো চরিত্র একে অন্যের পরিপূরক। আর আমার পরিবারের সবাই ব্যাচেলর পয়েন্ট দেখে। গ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। অমিকে বললাম, ভাই এইটাতে আমারে বাদ দাও। তোমার এইটা হিট সিরিয়াল। তুমি আমারে এইটায় ইনভলভ কইরো না। কিন্তু অমি মানতে নারাজ। বলল ভাই আপনি এইটা নিয়া চিন্তা কইরেন না। আমি আমার নিজের কস্টিউম আর্টিস্ট-এর সঙ্গে কথা বললাম। কী রকম সাজ হবে এই নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা- সব ঠিক করে অমির সঙ্গে আলাপ করলাম। অমি বলল ভাই সুপার হইছে।

ব্যাচেলর পয়েন্টের শুটিং অভিজ্ঞতা… কাজ করতে গিয়ে আমার জন্য কঠিন হয়েছে। আমি চরিত্রে ঢুকতে পারছিলাম না। কাবিলা, হাবু, পাশা ভাই সবাই সবার সঙ্গে ইনভলভ। কিন্তু আমি পারছিলাম না। ওইদিনের শুটিং শেষ অমিকে বললাম, \’অমি তোমার যে এক্সপেক্টেশন সেটা মনে হয় পূরণ করতে পারতেছি। তুমি আমারে বাদ দাও। অমি বলল, ভাই যা হইছে ফ্যান্টাস্টিক। আপনি গিয়া ঘুমান। কাল শুটিং আছে।

আমার কনফিউশনটা হলো যে- আমার যথেষ্ট টাইম লাগতেছিল। কনফিউশনের অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে। আমি যেহেতু প্রফেশনাল অ্যাক্টর না। ডিরেক্টর। সেহেতু আমি সহজ হতে পারছিলাম না। যদিও জানি এডিটিং করে অনেককিছু ফেলে দিতে হয়। আরেকটা বিষয় হলো এতো লম্বা সময় আমি শুটিং করি নাই। আগে বিজ্ঞাপনে কাজ করছি, নাটকে ছোট ছোট কাজ করেছি, আসলে এই লোডটা আমি নিতে পারতেছিলাম না। এক ধরনের অ্যানজাইটি কাজ করছিল। এরপরের দিন স্বাভাবিক হয়ে গেলাম। এরপরেরদিন স্বাভাবিক। আসলে আমার চরিত্রটা দেখেছেন একই সঙ্গে আমাকে দ্বৈত সত্তায় থাকতে হচ্ছিল। একবার আমি স্বাভাবিকভাবে কথা বলছি, আবার আমার যখন ফোন আসছিল তখন আমি আরেক রকম হয়ে যাচ্ছি।

নিজের অভিনয়ে সন্তুষ্ট? এখন আমার কাছে মনে হয় আরেকটু কনফিডেন্টলি কাজটা করতাম তাহলে ভালো হতো। ধরেন এখন যদি আমি রাস্তায় বের হই লোকজন আমাকে আসল নাম ভুলে গিয়ে বোরহান ভাই, বোরহান ভাই বলে ডাকে। এমনকী মাস্ক পরা অবস্থাতেও মানুষজন যেভাবে ঘিরে ধরে। তখন মনে হয় এইসব ভালোবাসার জন্যেও কাজটা যদি আরো ভালোভাবে এফোর্ট দিতাম!
সার্বিক সাড়া বা মানুষজনের প্রতিক্রিয়া কেমন? একটা চরিত্রকে দর্শকদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া এটা নির্মাতার একটা বড় দক্ষতা বলবো আমি। আমার চেয়েও নির্মাতার কাজ এখানে বেশি। সাড়া যদি বলেন বলবো \’হিউজ, হিউজ\’ রাস্তায় বের হলেই মানুষ জন বলে আরে বোরহান ভাই না। রেস্টুরেন্টে একদিন খেতে গিয়েছিলাম। একজন ভদ্রলোক। সুট টাই পরা। বেসিনে হাত ধুচ্ছি, উনি ধুচ্ছেন। একবার তাকিয়ে বললেন, \’আপনি বোরহান ভাই না?\’ বললাম হ্যাঁ, কিভাবে চিনলেন? একবার আপনার কণ্ঠস্বর শুনলাম। এমনই সব ঘটনা ঘটে হাস্যকর লাগে।

 

অভিনয় শিল্পী হিসাবে এই আকস্মিক খ্যাতি মানে আপনি যদি এটাকে খ্যাতি বলেন তাহলে বলবো, খারাপ লাগে না। এক ধরণের উপভোগ তো করছিই! সত্যি কথা বলতে গেলে ডিরেক্টর হিসেবে পাবলিকলি মানুষ কয়জনকে চেনে? এক সরয়ার ফারুকী ছাড়া আর তেমন কাউকে চেনে না? আর যাদেরকে চেনে তাদের একটা গণ্ডির মধ্যেই চেনে। তো সেক্ষেত্রে এক ধরনের পরিচিত হওয়ার লোভ তো মানুষের থাকে। আমি এক ধরনের চান্স তো নিতেই পারি। আমি এখন কোথাও ক্লায়েন্টদের সঙ্গে মিটিং করতে গেলে ৫-৭ জন বেরিয়ে যায়- আরে বোরহান ভাই না?

অভিনয় ও নির্মাণ দুটোর মাঝে পার্থক্য কী পেলেন? অভিনয় আর ডিরকশন- কাজ তো একই। ক্যামেরার পেছনে যে কাজ করে ক্যামেরার সামনে সে কাজ তো করতেই পারে। তবে এটাকে বড়ভাবে দেখার কিছু নেই। মানে শরাফ আহমেদ জীবনের এটা একটা স্পেশাল কোয়ালিটি এটা ভাবার কিছু নেই। এটা আমি মনে করি না। এটা কোনো স্পেশাল কোয়ালিটি না।

আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে অসংখ্য ডিরেক্টর আছে। যাদেরকে দিয়ে সামনে কাজ করালে ব্রিলিয়ান্ট কাজ হবে। নাম মেনশন করতে পারছি না। হয়তো নাম বলতে গেলে হয়তও বলতে পারবো না।

ব্যাচেলর পয়েন্টের পরের সিজন আসবে? আসা উচিৎ? ব্যাচেলর পয়েন্টে কাজ করতে গিয়ে অমির সঙ্গে আমার বেশ সখ্য তৈরি হয়েছে। ব্যাক্তিগতভাবে খুব ভালোভাবে মেশা হইছে। ওর মধ্যে একটা কারিশমা আছে। ও জানে, কোনটা করতে হবে। আর কোনটা করতে হবে না সেটাও জানে। যেমন ব্যাচেলর পয়েন্টের শেষ এপিসোডের অনেক আগেই সে আমাকে (বোরহান) সরিয়ে ফেলেছে। সরিয়ে ফেলেছে একটা ডিজাস্টার দিয়ে। যার কারণে দর্শকরা আমাকে মাথায় নিয়ে নিয়েছে এবং অপেক্ষা করতেছিল এই চরিত্রটার কী হয়। এই অপেক্ষাটার অর্থ ছিল কারণ বোরহান ক্যারেক্টারটার ফিনিশিং ছিল না। হুট করে শেষ দৃশ্যে বোরহান হাজির হয়ে গেল। যার কারণে দর্শকরা আশ্চর্য হয়ে গেলল। এবং তারা মনে করতেই লাগলো যে এর নিশ্চই শেষ রয়েছে, নিশ্চই আরো সিজন আসবে।

যদিও বিশ্বের অনেক সিরিয়াল খুবই জনপ্রিয় হবার পরেও কন্টিনিউ করা হয়নি। তবে আমি মনে করি যেহেতু দর্শকেরা চায়, এটা আরো হতে পারে…

এই ধারাবাহিক এতো জনপ্রিয় কেন, আপনার ধারণা… অমির একটা প্রশংসা না করলেই নয়। ওর সঙ্গে আমার গল্পের বাইরেও কথা হয়। ও না, ব্যাচেলর পয়েন্টে কোনো নীতিকথা, কোনো ধর্মীয় কথা, কোনো রাজনৈতিক কথা বলেনি। কোনো জিনিস যখন জনপ্রিয়তার দিকে মানুষ তখন এর ফায়দা নেয়। তখন কোনো ধর্মীয় মোটিভেশন, পলিটিক্যাল মোটিভিশন ঢুকিয়ে দেয়। ভাবে এই সুযোগে আমি আমার নিজের কথাটা বলে ফেলি। অমি কিন্তু এর ধারের কাছ দিয়েও যাইনি। সে শুধু বিনোদনটাই দিতে চেয়েছে। মানুষ সারাদিন কাজটাজ করে এসে একটু বিনোদিত হলো।

তবে কেউ যদি বলে নাটক দেখে শিখলাম। তাহলে তাকে বলবো ভাই সবকিছু থেকেই কেন আপনাকে শিখতে হবে? তাহলে সক্রেটিসের মতো বলতে হয়, নো দাইসেলফ। আগে নিজেকে জানুন। নিজের কাছে শেখার আছে অনেকিছু।

ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকে অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ, এ প্রসঙ্গে আপনার অভিমত ভাষার বিষয় নিয়ে সরয়ার ফারুকীর সময় থেকে এতো কছলানো হয়েছে যে এখন আর ভাষা নিয়ে বিকৃত করার ব্যাপার নেই। এখন নতুন করে তর্ক বিতর্ক, ভাষাতে অশ্লীল শব্দ চয়ন হচ্ছে। অশ্লীল শব্দও কিন্তু ভাষার পার্ট। এটা কিন্তু ভর করে আসেনি। এটা দেখার বিষয় যে কোন মিডিয়ামে যাচ্ছে। জাতীয় মাধ্যমে যেটা যাবে, যেটা ড্রয়িং রুমে বসে দেখবে সেখানে আমার মনে হয় সেন্সরশিপ আছে। যখন আপনি ওপেন মিডিয়ামে করবেন, ইউটিউব বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে- তখন এটা কিন্তু আপনার চয়েস আপনি দেখবেন কি না। আপনি ডেটা খরচ করে দেখছেন।


সমালোচনার কথা বলি। সমালোচক সবসময় ছিল, রবীন্দ্রনাথ বা তার আমলের আগে থেকেও সমালোচক ছিল। সমালোচকরা আসলে কখনই কিছু করতে পারবে না। শুধু সমালোচনাই করে যাবে। আমাকে যদি বলেন, একজন আমার সমসাময়িক নির্মাতা ও শিল্পীদের নিয়ে সমালোচনা করতে। আম্নি কিন্তু পারবোই না। কারণ এখানে আমি কাজ করি, আমি জানি এখানে একটা কাজ কতটা কঠিন। কতটা লিমিটেশনের মধ্যে দিয়ে যাই।

সমালোচকদের উদ্দেশ্যে… সমালোচনা যে কেউ করতেই পারে। কিন্তু শুনলাম একজন নির্মাতা ব্যাচেলর পয়েন্ট নিয়ে সমালোচনা করেছেন। আমার প্রশ্ন হলো- এটা উনি কিভাবে করেন? উনি কি সমালোচক? উনার কাজ নির্মাণ করা। ধরলাম উনি ভালো নির্মাণ করেন। সবাই কি ভালো জিনিসই বানাবে? হিরো আলমকে নিয়ে সমালোচনার কিছু নেই। হিরো আলমেরও একটা দর্শশ্রেণী আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখি সবচেয়ে সমালোচনা করে মানুষজন অনন্ত জলিলের। অথচ তার ভক্ত অনুসারীই শীর্ষে, এগিয়ে। দেশের এক নম্বর বিজ্ঞাপনের মডেল হন অনন্ত জলিল। গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন তিনই। মানুষজন সমালোচনা করে তাতে উনি কর্ণপাত করেন না। তাতে কি উনার ক্ষতি হয়?

নিউজটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সংক্রান্ত আরও খবর :