1. jahidul.savarnews24@gmail.com : News Editor : News Editor
  2. jahidul.moviebangla@gmail.com : Jahidul Islam : Jahidul Islam
  3. savarnews24@gmail.com : savarnews24 :
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৫ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
সাভার নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সবাইকে স্বাগতম >> আপনার আশপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাতে আমাদের মেইল করুন। ই-মেইল : savarnews24@gmail.com

প্রথম স্বামী জামিউল আমিনকে হত্যার দায়ে ৫ বছর জেল খাটেন মুন

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১
  • ২১২ বার পড়েছেন
প্রথম স্বামী জামিউল আমিনকে হত্যার দায়ে ৫ বছর জেল খাটেন মুন

দুই বোনকে দিয়ে দেহব্যবসা করাতেন মা, তিন খুনের পর পুলিশকে বললেন মেহেজাবিন রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি বাসা থেকে শনিবার (১৯ জুন) সকালে এক দম্পতি ও তাদের এক মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে, হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দম্পতির বড় মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম মুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহেজাবিন জানিয়েছেন, ‘বাবা দেশে না থাকায় তাকে এবং তার ছোট বোনকে (নিহত জান্নাতুল) দিয়ে দেহ ব্যবসা করাতেন মা। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য, শনিবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে মুন বলেন, ‘আমি মা-বাবা ও বোনকে হত্যা করেছি। আপনারা দ্রুত না এলে আমার স্বামী ও মেয়েকে হত্যা করব।’ ফোন পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মুনকে আটক করে পুলিশ। তিনজনের লাশ উদ্ধার ছাড়াও মুনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মেয়ে মারজান তাবাসসুম তৃপ্তিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে প্রথম স্বামী জামিউল ইসলাম আমিনকে হত্যার দায়ে দীর্ঘদিন জেল খাটেন মুন। কদমতলীর মুরাদপুর হাইস্কুলের পাশে লালমিয়া সরকার রোডের ২৮ নম্বর ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন মাসুদ রানা (৫০)। তার সঙ্গে স্ত্রী জোৎস্না ইসলাম মৌসুমী (৪০) ও ছোট মেয়ে জান্নাতুলের (২০) থাকতেন। বড় মেয়ে মুনের প্রথম বিয়ে হয় ২০১৪ সালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় তার স্বামী আমিন খুন হন। আমিন খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হন মুন, তার মা মৌসুমী, ছোট বোন জান্নাতুল ও মুনের খালা শিউলি আক্তার। কারাগারেই জন্ম হয় তার মেয়ে তৃপ্তিয়ার। কিছুদিন পরই সবাই জামিনে ছাড়া পেলেও মুনের জামিন হয়নি। প্রায় ৫ বছর জেল খাটার পর দেড় বছর আগে জামিনে মুক্ত হন মুন। এর কিছুদিনের মধ্যেই শফিকুল ইসলামের (৩০) সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গে কদমতলীর বাগানবাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রবাস জীবন শেষে গত ৫ মাস আগে দেশে ফেরেন মাসুদ রানা। মুনের চাচাতো বোন শিলা ইসলাম বলেন, মেহজাবিন তার পরিবারের সবাইকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। সে তার আগের ঘরের স্বামীকেও খুন করেছে। সেই মামলায় মেহজাবিনের জেল হয়েছিল। পাঁচ বছর জেল খেটে সে জামিনে ছাড়া পায়। তিনি বলেন, গত দু’দিন আগে স্বামী সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাসায় বেড়াতে আসে মেহজাবিন। এসেই তার ছোট বোনের জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অভিযোগ করে। এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। তার জেরেই হয়তো এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় সবার জন্য চা বানায় মুন। আমরা একসঙ্গে সবাই বসে সে চা খেয়েছি। এরপর আর কিছুই মনে নেই। পুলিশ বলছে, ওই বাসা থেকে ৪০টি ঘুমের ওষুধের খোসা পাওয়া গেছে। যে ওষুধ একজন সুস্থ মানুষ সর্বোচ্চ ৪ মিলিগ্রাম খেতে পারে। প্রতিটি ওষুধ ২ মিলিগ্রাম করে। সেখানে ৪০টি ওষুধ ৮০ মিলিগ্রাম ৫ জনকে খাইয়েছে মুন। অর্থাৎ একজনকে দিয়েছে ১৬ মিলিগ্রাম করে। ওভারডোজের কারণে সবাই অচেতন ছিলেন। এরপর মুন সবার হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধে। কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, হাত-পা বাঁধার পর সবাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মুন। সকাল ৮টার দিকে পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সে হত্যার কথা জানায়। ডিসি শাহ ইফতেখার আরও বলেন, মুনের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে যেটা জানতে পেরেছি, ‘বাবা দেশে না থাকায় তার মা তাকে এবং তার ছোট বোনকে (নিহত জান্নাতুল) দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। এসব নিয়ে প্রতিবাদও করেছিল সে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছোট বোনকে দিয়ে ব্যবসা চলছিল। এর মধ্যে তার স্বামী ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এছাড়া মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছেন। এসব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকে পরিবারের সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে মেহজাবিন পুলিশকে জানিয়েছেন।’ তবে মেহজাবিনের একার পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো কতটুকু সম্ভব, এনিয়ে পুলিশের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, মেহজাবিনের স্বামীকেও আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সম্পত্তির বিষয়ও এখানে রয়েছে। তদন্তে এসব আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সংক্রান্ত আরও খবর :