1. jahidul.savarnews24@gmail.com : News Editor : News Editor
  2. jahidul.moviebangla@gmail.com : Jahidul Islam : Jahidul Islam
  3. savarnews24@gmail.com : savarnews24 :
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৮ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
সাভার নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সবাইকে স্বাগতম >> আপনার আশপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাতে আমাদের মেইল করুন। ই-মেইল : savarnews24@gmail.com

নজরুল আলম – অন্তরালের মাঝি

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫১৯ বার পড়েছেন

মানুষকে নিঃশেষে বিচার করা সম্ভব নয়, কিন্তু মানুষের কাজের ভিতর তার মৌলিক মূল্যবোধের প্রকাশ পায় বলে এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে মানুষের সত্তিকারের প্রবৃত্তি প্রস্ফোটিত হয়। করোনা অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে পরিচিত অনেক লোক আমার সাথে অক্সিজেন সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করেন, আমি খুব সচ্ছল মানুষ  নয় যে কেউ একজন চাইলেই  তাকে দু’একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার দান করতে পারি। যেহেতু আমি মেডিকেল রিলেটেড জব করি এবং আমার আওতাধীন একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার এলাকার বাড়িতে-বাড়িতে ঘুরতে শুরু করেছে তাই এলাকার লোকজন আমার কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাওয়া যাবে ধরে নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করেন, প্রথমদিকে তাদের ব্যাপারটা আমলে না নিলেও যখন দেখলাম আমার শহর সিলেটে কোনো হাসপাতালে কোনো বেড খালি নেই, আমার রাণাপিংয়ের ঘরে-ঘরে ভাইরাল ফ্লো, সিলেটের একমাত্র কোভিড ডেডিকেটেড সরকারি হাসপাতাল শামসুদ্দিনে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের কানেকশন না পেয়ে রাত ৪ টায় হাসপাতাল হতে অক্সিজেন  সিলিন্ডার চেয়ে আমার এলাকার রোগী আমার কাছে ফোন করে কান্নাকাটি করেন, আমি তখন ফেসবুকে অক্সিজেন সহায়তা চেয়ে আমার এলাকার বিত্তবান এবং প্রবাসী ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

ফেসবুকে আমার স্ট্যাটাস পড়ে অভূতপূর্ণ সাড়া মিলে, কিন্তু পর্দার অন্তরালে চলে দর কষাকষি, কেউ অক্সিজেন সিলিন্ডার এর বিনিময়ে আমাকে দিয়ে তার নিজস্ব বিজ্ঞাপন করিয়ে নিতে চান, কেউ চান পারিবারিক পাবলিসিটি, আমি যা পারি ফেসবুকে বস্তুনিষ্ঠ কিছু লিখে দিতে, না হয় বাড়িয়ে দু’কলম লিখে দিলাম! কিন্তু তাতে তারা সন্তুষ্ট হতে পারেন না। তাদের এইসব অবান্তর দাবি আমার ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে ঠিক যায় না বলে একে একে সহায়তার অক্সিজেন সিলিন্ডার আমার হাত ছাড়া হতে থাকে। আমার আওতাধীন একটি সিলিন্ডারের সাথে বিনা শর্তে যুক্ত হয় ফ্রান্স প্রবাসী আমার ছোটভাই শাওন’এর অনুদান দেয়া একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার।

অক্সিজেন সমস্যা নিয়ে যখন অসহায় হাবুডুবু খাচ্ছি তখনই প্রতিবন্ধকতার আড়াল উড়িয়ে দিয়ে জেগে উঠেন এক ফিনিক্স পাখি,বিন্দু মাত্র কিছু জিজ্ঞাসা না করে দু’হাত উজাড় করে বাড়িয়ে দেন আমাদের প্রতি,, আমার ফেসবুকে মেসেঞ্জারে নক করেন আমার এলাকার শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী ক্যালিফোর্নিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের মান্যবর সভাপতি জনাব নজরুল আলম সাহেব, তিনি আমাকে নিঃশর্তে চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডার অনুদান দেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করে এলাকার সব মানুষ যাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন আছে তাদের অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক সদস্য সংগ্রহ করে একটি  স্বেচ্ছাসেবী অক্সিজেন সাপ্লায়ার কমিটি করি এবং এই সময়ের ভিতর আমাদের বহরে আরও দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার যুক্ত  হয়।

আমি আজ আমেরিকা প্রবাসী নজরুল আলম সাহেব কে নিয়ে লিখতে বসেছি, যারা অক্সিজেন সিলিন্ডার বিনিময় করে আমার কাছে নিজস্ব বিজ্ঞাপন চেয়েছিলেন  তাদের অনুদান গ্রহণ করতে পারেনি বলে আপনারা আমার এই লেখাকে  বাঁকা চোখে দেখবেন না। যে লোক আত্মবিজ্ঞাপন ছাড়া নিঃস্বার্থে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, মানুষ হিসাবে তার সম্পর্কে আমাদের পক্ষ হতে কিছু বলা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

মানুষ আত্মকেন্দ্রীক, এই আত্মকেন্দ্রীক মানুষের বাহ্যিক পরিস্ফুটন হয় যেভাবে, মানুষ নিজের বাইরে প্রথম তার পরিবারকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে, পরিবার হতে আরেকটু বড়ো পরিসরে তার গ্রাম অথবা এলাকা, আরও বড়ো পরিসরে নিজের মাতৃভূমি, এভাবেই মানুষ ভালোবাসতে শেখে, দেশকে ভালোবাসে,এভাবেই মানুষ বিকশিত হয়, এবং মানুষের পারিবারিক শিক্ষা এরকম হওয়া উচিত।  নজরুল আলম ভাইয়ের সাথে গতো ২৫ বছর হতে আমার সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিলোনা, অথচ যারা আমাকে দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিনিময়ে পাবলিসিটি চেয়েছিলেন তাদের সাথে আমার নিবিড় যোগাযোগ আছে,এই পরিচিতজনেরা যেখানে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে বিনিময় চাইলেন সেখানে নজরুল আলম দেখালেন তার পারিবারিক শিক্ষা কতো টেকসই  ছিলো।

নজরুল আলম সাহেব আমার এলাকার ভূমি সন্তান,  আমরা নিশ্বাস দূরত্বের প্রতিবেশী, আরো প্রসারিত অর্থে তিনি আমার অভিভাবক,  শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই, তাঁর সম্পর্কে খুব তাড়াহুড়ো করে যদি একটু বলি,তিনি সিলেট এমসি বিশ্ববিদ্যালয় হতে রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স এবং মাস্টার্স করেছেন। বর্তমানে  আমেরিকা প্রবাসী ওখানে ব্যবসা করেন, এবং বিভিন্ন চ্যারিটি মূলক কাজ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত আর আওয়ামী রাজনীতির একজন পতাকা বাহক। এই সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্তের ভেতরে নজরুল আলম সাহেবকে মোড়ক বন্দী করে যদি ভাবেন তাকে স্টাডি করা শেষ তবে ভুল করছেন।

অতি সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কেল এবং যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে এই প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর নামে গবেষণা পুরস্কার চালু করা হয়েছে, চুক্তি মতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ শাখা বার্কেলে ফাউন্ডেশনকে প্রতিবছর ২০০০০ ডলার দান করবে, বার্কেলে সাউথ এশিয়া স্টাডিজ গবেষণার জন্য আবেদন গ্রহণ করবে, যুক্তরাষ্ট্র ও য়ূরোপের সব অ্যাক্রিকেটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ও পি এইচ ডি  শিক্ষার্থী এবং যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র ফেকাল্টি বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণার ইচ্ছা প্রকাশ করে তারা আবেদন করতে পারবে।

বার্কেলের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা) র্যান্ডি এইচ কার্টেজ, বার্কলে ফাউন্ডেশন এর অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যান্সি লুবিচ ম্যাককিনি, ইনস্টিটিউট ফর সাউথ এশিয়া স্টাডিজ এর পরিচালক সুগাতা রায়, আর বঙ্গবন্ধু পরিষদ ক্যালিফোর্নিয়ার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন পরিষদের সভাপতি আমার নিঃশ্বাস দূরত্বের প্রতিবেশী, শ্রদ্ধেয় নজরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রানা হাছান মাহমুদ।

ইতিহাস গতিপথ পাল্টায় কিন্তু সে তার প্রথম কে কোনোদিন মুছে দিতে পারে না, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরীফ এর প্রথম বঙ্গানুবাদ করেছিলেন এক হিন্দু ভদ্রলোক গিরিশ চন্দ্র সেন।অথচ শাস্ত্র মতে কিন্তু মুসলমানের ধর্ম গ্রন্থ ছুঁয়ে দেখার এখতিয়ার ও তাঁর ছিলোনা, তবুও তিনি প্রথম পবিত্র কুরআন শরীফের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন বলে তার বিপক্ষে অশুচির নালিশ না তুলে বাঙালি মুসলমান শ্রদ্ধার সাথে তার নাম স্মরণ করে থাকেন। এরকমই অনুমিত পথে আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রথম গবেষণা পুরস্কারের প্রচলন, এই প্রথমের, এই নব দিগন্তের যুগস্রষ্টাদের একজন হচ্ছেন আমাদের নজরুল আলম। অদূর ভবিষ্যতে শুধু বাঙালির ইতিহাস কেনো বার্কেলের ইতিহাস চাইলেও তাদের নাম মুছে দিতে পারবেনা।

বাঙালির রাখাল রাজা, সুরমা, কুশিয়ারা, পদ্মা, যমুনা হাজার নদীর স্রোতধারায় বিধৌত বাংলা ভূখন্ড যার নামে নিজেকে পরিচিত করে , হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমানকে সপরিবারে হত্যাকারি আত্মস্বীকৃত খুনি, রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র হতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আমেরিকা বঙ্গবন্ধু পরিষদ ক্যালিফোর্নিয়ার সভাপতি আমাদের নজরুল আলম সাহেব এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী হাছান মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের নিকট একটি আবেদন চালু করেছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতি ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে সবার উপরে, তাকে নির্মম হত্যার বিচার নিশ্চিত করা প্রতিটি বাঙালি, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার নৈতিক দায়, আমরা যেখানে বাংলাদেশ বসে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের নিয়ে বিকারহীন সেখানে বাঙালি হিসেবে নজরুল আলম এবং তার সংগঠন আমেরিকা ক্যালিফোর্নিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র হতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু করে ১৮ কোটি বাঙালির, জাতির দায়মোচন করতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

এই যদি হয় নজরুল আলমের সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বসে বাঙালিয়ানা প্রদর্শন তবে বাংলাদেশের বাঙালিদের জন্য তার ব্যাকুলতার সামান্য দৃষ্টান্ত বলি, একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি ফেসবুক মেসেঞ্জারে নজরুল আলম ভাইয়ের  বার্তা আমি যেনো আমার সুবিধাজনক সময়ে তিনি কে নক করি, ফোন বেক করলে ভাই বলেন আমাদের সংগঠনের জন্য তিনি তাদের চ্যারিটি মূলক সংগঠন বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলস (বাফলা) এর পক্ষ হতে ১০’টি অক্সিজেন সিলিন্ডার এর ব্যবস্থা করেছেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার হাতে পেয়ে আমি বাফলা সম্পর্কে অল্প বিস্তর তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করে যতটুকু জানতে পেরেছি খুব সংক্ষিপ্ত আকারে তার কিছু কর্মযজ্ঞ আমি উপস্থাপন করছি, নজরুল আলম বাফলার সাবেক সভাপতি, এবং তিনির হাত ধরে বাফলা চ্যারিটি মূলক কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে অবদান যে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নওগাঁর বটতলী গ্রামে গৃহহীন মানুষের জন্য ২০টি বসত ঘর তৈরি করে দেয়া। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আর্সেনিক মুক্ত পানির প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করা। আরো অনেক কাজের ভিতরে যে দৃষ্টান্ত আমাকে স্থবির করে দেয় তারা  নামে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস অ্যাঞ্জেলস হলেও শুধু বাঙ্গালীদের সাহায্যে কাজ করে যাচ্ছেন এমনটি নয়, করোনা অতিমারীর  সময়ে সুদূর আমেরিকায় জনস্বাস্থ্যে কাজ করা মুসলমান স্বাস্থ্যকর্মী যারা সংক্রমণের ভয়ে পরিবারের কাছে যেতে পারছেন না তাদের কাছে  পবিত্র রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার মানসিকতা আমাকে সত্যি স্তম্ভিত করেছে।

বাংলাদেশে বিদেশিদের চ্যারিটি মূলক কাজ গুলো সাধারণত নন গভর্ণমেন্ট অর্গানাইজেশন (এন, জি,  ও) এর মাধ্যমে হয়ে থাকে, যা মূলত ছিন্নমূল অসহায় মানুষের রক্ত চুষার বিকল্প উপায়, তার বাইরে ব্যক্তি বিশেষের অনুদান অথবা বিভিন্ন ছোট ছোট সংস্থাগুলোর চ্যারিটি ওয়ার্ক এগুলো সাধারণত ক্যামেরা নির্ভর, কিন্তু বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা) এর ব্যাপারে আমি এমন মন্তব্য করতে পারছিনা, কারণ সংগঠনটি নওগাঁর বটতলী গ্রামে যেমন ছিন্নমূল মানুষকে ২০টি বসত ঘর তৈরি করে দিয়েছে ঠিক তেমনি নওগাঁ হতে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সিলেটের গোলাপগঞ্জে আর্তপীড়িত  মানুষের জন্য ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দান করেছে। সংগঠনের এইযে দূরদর্শিতা এর মূলে কিন্তু তার যোগ্য নেতৃত্ব, আর এই নেতার সমীপে বলছি মানুষকে নিঃশেষে বিচার করা সম্ভব নয় কিন্তু আপনার মূল্যবোধ আপনার কাজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বাঙালি অন্ত শ্রদ্ধেয় নজরুল আলম সাহেব।

স্বপন মুসলমান
কবি ও প্রাবন্ধিক।

নিউজটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সংক্রান্ত আরও খবর :