1. jahidul.moviebangla@gmail.com : Jahidul Islam : Jahidul Islam
  2. savarnews24@gmail.com : savarnews24 :
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
সাভার নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সবাইকে স্বাগতম >> আপনার আশপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাতে আমাদের মেইল করুন। ই-মেইল : savarnews24@gmail.com

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৩৩ বার পড়েছেন

Video জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর।

নাজমুল হুদা: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর। শীতের শুরুতেই প্রতিবছরের মতো এবারও অতিথি পাখিরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন লেকে ভিড় জমিয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ে ক্যাম্পাসের লাল পদ্মশোভিত লেকগুলোতে অতিথি পাখি মেতে উঠেছে জলকেলিতে। করোনায় বন্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী না থাকলেও আশপাশের অনেকেই ভিড় করছে অতিথি পাখি দেখতে। বিশ^বিদ্যালয়ের ছোট-বড় প্রায় ১৪টি লেকের মধ্যে পরিবহন চত্বরের পাশের লেক, ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের পাশের লেক, রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন লেকে অতিথি পাখির সমাগম সবচেয়ে বেশি। সবুজ এই ক্যাম্পাসে হেমন্তের আমেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিথি পাখির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠতে শুরু করে জলাশয়গুলো। শীতের সময় প্রতিদিনই দেখা মেলে ঝাঁকে ঝাঁকে হাজারো বাহারি রঙের অতিথি পাখি। কনকনে শীতের সকালে সোনামাখা রোদে লেকগুলোতে হাজারো অতিথি পাখির এই অবাধ বিচরণ, সারাদিন খুনসুটি, ক্যাম্পাসের আকাশে মুক্ত ডানায় ভর করে বাতাসে গা ভাসিয়ে দলবেঁধে হেলে-দুলে মনের সুখে উড়ে বেড়ানোÑ শীতের জাহাঙ্গীরনগরের সাধারণ চিত্র।

কুয়াশাচ্ছন্ন ও শীতের আবহাওয়ায় সবুজে সুশোভিত বিশাল এই এলাকা অতিথি পাখিদের কলরব পাখিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। রক্তকমল শাপলার মধ্যে সেই সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা রকমারি অতিথি পাখির বাহারি খেলায় মেতে ওঠা আকর্ষণীয় দৃশ্যে লেকগুলো জানান দেয় হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক অনন্য প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ। এই অতিথিদের স্বাগত জানাতে নতুন রূপে সেজেছে জাবির জলাশয়গুলো। ফুটন্ত লাল শাপলার সৌন্দর্যে মন-মাতানো রূপ ধারণ করেছে বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দূর থেকে তাকালেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। যে কারও নজর কাড়বে এ দৃশ্য। শহরের ব্যস্তময় যান্ত্রিক জীবন আর ইট-পাথরে ঘেরা ধুলাবালি থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করে ক্যাম্পাসে।
এ বছরের মার্চ থেকে করোনার প্রকোপে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্ধ জাবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে এখন রাজত্ব করছে পরিযায়ী পাখিদের দল। কোলাহল না থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বেশি বলে ধারণা করছেন পাখি গবেষকরা।
হিমালয়ের উত্তরের সুদূর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ও নেপালে এ সময়টায় প্রচুর তুষারপাত হয়। ওই তুষারপাতে পাখিরা মানিয়ে নিতে না পেরে বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। শীত বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যাম্পাসে বাড়তে থাকে অতিথি পাখির সংখ্যা। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির অর্ধেকটা পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পরিযায়ী পাখির উপস্থিত লক্ষ করা যায়। প্রধানত, দুধরনের পাখির আগমন ঘটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি ডাঙায় শুকনো স্থানে বা ডালে বসে বিশ্রাম নেয়। আরেক ধরনের পাখি বিশ্রাম নেয় পানিতে।
বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে অতিথি পাখির দেখা মেলে। শীতের সময় ক্যাম্পাসে ১২৬ প্রজাতির দেশীয়, ৯৮ প্রজাতির বিদেশি মিলিয়ে ২০৬ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এর মধ্যে ৭৮ প্রজাতির পাখি নিয়মিত ক্যাম্পাসে অবস্থান করে।
পানিতে বিশ্রাম নেওয়াদের বেশিরভাগই হাঁসজাতীয়। এর মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনি, ছোট জিরিয়া, পান্তামুখী, পাতারি, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক, পাতারি হাঁস, জলকুক্কুট, খয়রা ও কামপাখি অন্যতম। এ ছাড়া মানিকজোড়, কলাই, ছোটনগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, বামুনিয়া হাঁস, লাল গুড়গুটি, নর্দানপিনটেল, কাস্তে চাড়া প্রভৃতি পাখিও হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসে এই ক্যাম্পাসে।
ক্যাম্পাসে পাখিমেলার আহ্বায়ক এবং পাখি গবেষক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান বলেন, অতিথি পাখিদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ধারণা করছি, এ বছরের অতিথি পাখির সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সংক্রান্ত আরও খবর :