1. jahidul.moviebangla@gmail.com : Jahidul Islam : Jahidul Islam
  2. savarnews24@gmail.com : savarnews24 :
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
সাভার নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সবাইকে স্বাগতম >> আপনার আশপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাতে আমাদের মেইল করুন। ই-মেইল : savarnews24@gmail.com

এক মনিটরে ৯৬ থানা

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৯১ বার পড়েছেন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসারের টেবিলে চকলেট নেই। ঢাকার নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসে সেই দৃশ্য দেখছেন অতিরিক্ত ডিআইজি নুরে আলম মিনা। সঙ্গে সঙ্গে টেবিলে চকলেট না থাকার কারণ জানতে চান তিনি। দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার বলেন, শেষ হয়ে গেছে আবার আনা হচ্ছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার হাজতে কোনো আসামি নেই। মেঝেতে বিছানাপত্র ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। পাশে দুটি পানির বোতল। এ সবই সেগুনবাগিচায় বসে ক্যামেরার চোখে দেখা। থানা-পুলিশের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার ৯৬ থানায় বসেছে ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা। সেই ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে। ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে ডিউটি অফিসার, হাজতখানা ও নিরাপত্তারক্ষীর অবস্থান। ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশি সেবার মূল কেন্দ্র হলো থানা। কিন্তু থানা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। সে কারণে থানার কার্যক্রম মনিটর করতে তারা ঢাকা রেঞ্জের সব থানায় তিনটি করে ক্যামেরা বসিয়েছেন। এখন ঢাকার নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কার্যক্রম মনিটর করতে পারছেন। আজ ১ জানুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। এখন থানা মনিটরিংয়ের কাজ চলবে ২৪ ঘণ্টা। চাইলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ঘুরিয়েও আশপাশের দৃশ্য দেখা যাবে। অতিরিক্ত ডিআইজি নুরে আলম বলেন, থানার কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে সব জেলা সদর, বঙ্গবন্ধুর সমাধি, স্মৃতিসৌধ, চারটি ফেরিঘাট ও মহাসড়কের রোড জংশন ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসবসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও ক্যামেরা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কর্মকর্তারা জানান, থানার গেটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, দুর্ব্যবহার করাসহ ক্ষেত্রবিশেষে আসামি বা তার স্বজনদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আসে। এ ছাড়া নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কি না, ডিউটি অফিসারের কক্ষে একই লোক বারবার আসছে কি না, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে সেন্ট্রি কেমন আচরণ করছেন, সেন্ট্রি রাতে কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে ভেতরে বসে আছেন কি না ইত্যাদি বিষয় মনিটরিং করা হচ্ছে। এক মনিটরে ৯৬ থানা নিয়ম অনুসারে প্রতি থানায় প্রতিদিন ভোরে এবং রাত ১০টার পর হাজতিদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া, হাজতখানায় কোনো অস্বাভাবিক বিষয় দেখা যায় কি না, নারী হাজতি থাকলে নারী সেন্ট্রি আছে কি না, হাজতখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সেখানে শীতকালীন কম্বল আছে কি না, হাজতখানায় আসামিদের আত্মীয়স্বজন খাবার দিচ্ছে কি না, হাজতির সঙ্গে অস্বাভাবিক উপকরণ আছে কি না ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা হয় মনিটরিং সেন্টার থেকে। ঢাকার নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা শুধু এসব দৃশ্য চোখেই দেখছেন না, দর্শনার্থীর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তা-ও মনিটর করছেন। এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন তাঁরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাচ্ছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে, সে জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লেও কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিছুদিন পর সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেল, ক্যামেরায় যা দেখা যাচ্ছে, তা ৩০ দিনের ভিডিও রেকর্ড থাকবে। এতে করে কেউ কোনো কিছু করে আর অস্বীকার করতে পারবে না। ক্যামেরাগুলোতে জুম ক্যাপাসিটিও আছে। এর মাধ্যমে ছবি বা ভিডিওকে কাছে এনে বড় করে দেখা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সংক্রান্ত আরও খবর :