1. jahidul.moviebangla@gmail.com : Jahidul Islam : Jahidul Islam
  2. savarnews24@gmail.com : savarnews24 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
সাভার নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সবাইকে স্বাগতম >> আপনার আশপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাতে আমাদের মেইল করুন। ই-মেইল : savarnews24@gmail.com

ধামরাইয়ে অবৈধ ইট ভাটায় ধ্বংসের মুখে শত শত ভিগা ফসলি জমি

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪২৩ বার পড়েছেন
  • ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। কমছে আবাদি জমি ও ফসল। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে খাদ্য ভান্ডার ও পরিবেশ-প্রকৃতিতে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক
  •  

    ধামরাইয়ে দুই শতাধিক স্পট থেকে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে শত শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে আবাদি জমি। কমতে শুরু করেছে ফসলের উৎপাদন।

     

  • স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের প্রলোভন দেখিযে দেদার ভেকু মেশিন দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এরপরও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

    অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে মিল-কারখানায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, গ্রামের দক্ষিণ পাশে দুই ফসলি জমির মাঠ রয়েছে। ঐ জমিতে প্রতি বছর সরিষা ও বোরো ধান আবাদ করা হয়। জমির একশ গজ দূরেই রয়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক।
    ধামরাইয়ের মহিশাষী, ধলকুণ্ড, মধুডাঙ্গা, গাড়াইল, বালিথা-বাথুলি, বেলিশ্বর, মাদারপুর, বাস্তা, কাওয়াখোলা, কুল্লা, কালামপুর, বড়নারায়ণপুর, বাসনা, দেপাশাই, ধাইরা, ভালুম, জয়পুরা, ফুকুটিয়া, ভাড়ারিয়া, বাইশাকান্দা, জালসা, কুশুরা, নান্নার, সুয়াপুরসহ দুই শতাধিক স্থানে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে ট্রাক দিয়ে ফসলি জমির মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জমির মালিকরা না বুঝেই তা ইটভাটার মালিকদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমতে শুরু করলেও এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে না।

    ধামরাইয়ের মধুডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মধুডাঙ্গা গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী সেখানে ২টি ভেকু মেশিন দিয়ে সরিষা ক্ষেত ও বোরো চারা ধানের জমির মাটি প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ফুট গভীর করে কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পাশের জমির মালিক নাজিম উদ্দিন, লাল খা, মুক্তাসহ ৯-১০ জন কৃষকের ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। তারা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। এতে বাধা দিতে গেলে মাটি ব্যবসায়ীরা উল্টো বিভিন্ন হুমকি দেন।

    এ ব্যাপারে মাটি ব্যবসায়ী সোলেমান হোসেন ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার মতো ধামরাইয়ে শত শত ব্যবসায়ী ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছেন, আগে তাদের বন্ধ করতে বলেন তারপরই আমি বন্ধ করব। গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় পাশের জমির ক্ষতির কথাও স্বীকার করেন তিনি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধামরাইয়ের এক ইটভাটা মালিক বলায় কোং বলেন , ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা মানে ওই কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া। তিনি বলেন, ধামরাইয়ে এখন চলমান প্রায় ২০০টি ইটভাটা রয়েছে। আর এসব ভাটার ইট তৈরি করার জন্য ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটিই সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনকে তারা ম্যানেজ করেই ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

    ধামরাইয়ের ধলকন্ড এলাকার কৃষক বলেন , টাকা হলে প্রশসন আর কোন কাজ করে না । ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে ওই জমিতে আগের মতো আর ফসল হবে কি-না তা তিনি জানেন না।

    ধামরাইয়ের আবুল বাশার কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, জমির মূল উর্বরতা শক্তি থাকে মাটির উপরিভাগে। আর এ মাটি (টপ সয়েল) কেটে নিলে তার উর্বরতা শক্তি সঞ্চয় করতে সময় লাগে ১০-১২ বছর। ধামরাইয়ের মতো সারাদেশেই যেভাবে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে,

    এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০-১২ বছর পর কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

    ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান সিকদার বলেন , সরকারি নিয়ম না মেনেই ধামরাইয়ে অনেক ইটভাটা তৈরি হয়েছে। আর এসব ভাটার জন্য মাটির প্রয়োজন। তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের জমির টপ সয়েল তারা নিচ্ছে। আর এ টপ সয়েল নেওয়া বন্ধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই।

    ধামরাই ইউএনও সানাউল্লাহ বলেন,স্থানীয় এক শ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী জমির মালিক কৃষকদের ফুঁসলিয়ে ঐসব জমির মাটি ক্রয় করে। তার পর ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ট্রাকে ভর্তি করে স্থানীয় মিল-কারখানায় অধিক মূল্যে পাচার করছে, অবৈধভাবে মাটি কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

নিউজটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সংক্রান্ত আরও খবর :