আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, এই বিচার কেবল একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়—এটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি শক্ত বার্তা যে দেশটি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁর মতে, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সে যত শক্তিশালী বা প্রভাবশালীই হোক। এই বিচার হবে ইতিহাস এবং সেইসব মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান, যাঁরা ন্যায়বিচারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।”
তিনি আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে অপর দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আগামীকাল সোমবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
মামলাটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীর লাশ পোড়ানোর ঘটনাকে ঘিরে করা হয়েছে। মামলার মোট আসামি ১৬ জনের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার এবং বাকি আটজন পলাতক।
গ্রেপ্তার আট আসামির মধ্যে রয়েছেন—সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আব্দুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক স্বৈরাচার পালিয়েছে। বাংলাদেশেও তা ঘটেছে। তারা শুধু নিজেরাই পালায়নি, তাদের সঙ্গে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, দলীয় কর্মী এমনকি বিচারপতিরাও পলায়ন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিচার কেবল একটি রায় নয়—এটি একটি বার্তা: কেউ অপরাধ করে রেহাই পাবে না। ট্রাইব্যুনালের কাছে আমাদের অনুরোধ, দোষীদের নিরপেক্ষ, নির্ভুল ও দৃঢ় বিচার নিশ্চিত করুন, যাতে জনগণের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে আসে।”
তাজুল ইসলাম দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণগুলো “অকাট্য, সুসংহত এবং ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে।” তাঁর ভাষায়, “এই প্রমাণ চাক্ষুষ সাক্ষ্য, ডিজিটাল রেকর্ড, সরকারি দলিল ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের সমন্বয়ে গঠিত একটি সুদৃঢ় প্রমাণশৃঙ্খল—যার প্রতিটি অংশ পরবর্তী অংশকে আরও জোরালো করে।”










