কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, মার্কেট ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কাপড়ের মার্কেট, মাছের আড়ৎ এবং বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনের নিচতলা পানিতে তলিয়ে যেতে দেখা যায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে। বাইপাইল ত্রিমোড় থেকে জামগড়া ও নরসিংহপুর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানিতে বিকল হয়ে পড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। নালা-ডোবা উপচে নোংরা পানি ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পানি জমে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। সড়কসংলগ্ন ড্রেন উপচে ময়লা পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পলাশবাড়ী, বাইপাইল, জামগড়া, চিত্রশাইল, ভাদাইল ও কাইচাবাড়ি এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জামগড়াগামী প্রাইভেটকার চালক কাউসার হোসেন বলেন, “বাইপাইল এলাকায় এসে দেখি হাঁটুসমান পানি। গাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় কোমরসমান পানি জমে থাকায় চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
পলাশবাড়ী বটতলা এলাকার বাসিন্দা রবিউল আওয়াল বলেন, “ঘরের ভেতরে-বাইরে সব জায়গায় পানি। পানি নামার কোনো পথ নেই। ঘরেও থাকা যাচ্ছে না, বাইরে বের হওয়াও কঠিন।”
বাইপাইল করিম সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী নেছার উদ্দিন খান বলেন, “টানা বৃষ্টিতে দোকানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। নিচে রাখা অনেক পণ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।”
মাছ ব্যবসায়ী রবিন চন্দ্র বলেন, “রাত থেকেই আড়তে পানি ঢুকছে। কিছুই করার নেই। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার মেয়র আব্দুল গণি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।









