বুধবার | ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৩০ পৌষ, ১৪৩২ | ২৪ রজব, ১৪৪৭

জাবিতে ‘বাউলের দ্রোহ’ গানের আসর বন্ধের অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাবি

সারাদেশে বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘বাউলের দ্রোহ’ শিরোনামে বিচার গানের আয়োজন করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। তবে গভীর রাতে উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান চলার অভিযোগ উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, সন্ধ্যা থেকে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা ‘বাউলের দ্রোহ’ পরিবেশনা শুরু করেন। রাত ৯টার পর বিশ্ববিদ্যালয়–সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপগুলোতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গানের উচ্চ শব্দের কারণে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করতে থাকেন। রাত ১টার পরও অনুষ্ঠান চলতে থাকলে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে একটি দল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কয়েকটি হ্যান্ড সাউন্ডবক্স ও মাইকে গান বাজিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম পরিবহন চত্বরে গিয়ে আয়োজকদের গান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এ সময় আয়োজকদের সঙ্গে প্রক্টরের কথাকাটাকাটিও হয়। পরে প্রক্টরের নির্দেশে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বন্ধ করেন।

আয়োজকদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই তারা শব্দমাত্রা কমিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর চাপের মুখে প্রশাসন অনুষ্ঠান বন্ধ করেছে। তাদের দাবি, “সাধারণ শিক্ষার্থী” পরিচয়ে চাপ দেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ শাখা ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি বলেন, “জাহাঙ্গীরনগরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রক্টর গান বন্ধ করতে মঞ্চে উঠলেন। আমরা শব্দ কমিয়েই অনুষ্ঠান চালাচ্ছিলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে হলে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি। এ ক্যাম্পাসে সবসময়ই সম্মান ও সহাবস্থান ছিল—তা নষ্ট করার চেষ্টা আমরা প্রতিহত করব।”

অন্যদিকে প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম বলেন, “পরীক্ষার মৌসুম চলছে। উচ্চ শব্দে সমস্যা হচ্ছে বলে বহু শিক্ষার্থী ফেসবুকে পোস্ট করেছে, কেউ কেউ মাইগ্রেনের কথাও জানিয়েছে। তাই আয়োজকদের শব্দ কমাতে বলেছিলাম। রাত পৌনে দুইটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ করতে অনুরোধ করলে তারা ১০–১৫ মিনিট সময় নিয়ে তা শেষ করেছে। তবে কয়েকজন অসৌজন্যমূলক আচরণও করেছে।”

তিনি আরও জানান, উচ্চ শব্দে গানের প্রতিবাদে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছিল এবং তারাও কিছু উচ্চস্বরে কার্যক্রম চালিয়েছে, যা প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রক্টর।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031