জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তাদের মতামত দিচ্ছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মোট ২৮টি দল নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তবে সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নমুখী অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
সংসদীয় প্রক্রিয়ার পক্ষে বিএনপি
বিএনপি তিন পৃষ্ঠার মতামত জমা দিয়ে জানিয়েছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো সরকার রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করলে সেটি ‘বিপ্লব নয়, বরং ক্যু’ হিসেবে গণ্য হবে। দলটির মতে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত নয়।
বিএনপি প্রস্তাব করেছে,
১. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবিলম্বে সনদের আশু করণীয় সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করবে।
২. যেসব সুপারিশ তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
৩. নির্বাচিত জাতীয় সংসদ গঠনের পর দুই বছরের মধ্যে বাকি সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করবে।
দলটির দাবি, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাস্তবায়ন কৌশলই যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবসম্মত।
জামায়াত গণভোটের পক্ষে
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা সনদ বাস্তবায়নে গণভোটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোট বা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে এ সনদ বাস্তবায়ন করা উচিত। দলটি আগামী ৬ সেপ্টেম্বর তাদের চূড়ান্ত মতামত কমিশনে জমা দেবে।
এনসিপির প্রস্তাব গণপরিষদ গঠনের
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সর্বোত্তম ও গণতান্ত্রিক উপায় হবে একটি গণপরিষদ গঠন। এনসিপির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গণপরিষদে জনগণ, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব থাকবে, যা সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংকট এড়াতে সহায়ক হবে।
কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত জুলাই সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠাবে। কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার জানান, এরপর আর কোনো মতামত নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা আলাদাভাবে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, তবে সেটি রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হবে না।










