মঙ্গলবার | ১৬ জুন, ২০২৬ | ২ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২৯ জিলহজ, ১৪৪৭

ভারতে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্রের গম্বুজ ভেঙে মৃত ৫

ডেস্ক রিপোর্ট

ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ স্থাপত্যে’র তালিকায় আছে এই সমাধিক্ষেত্র। ধ্বংসস্তূপে আরও কয়েকজন চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: এক্স।

ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলীয় পূর্ব নিজামুদ্দিনে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের ঐতিহাসিক সমাধিক্ষেত্রের গম্বুজ ধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দিল্লি দমকল বিভাগ জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দমকলের পাঁচটি দল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

ছুটির দিন হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় সমাধিক্ষেত্রের ভেতরে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ছোট, সবুজ রঙের ভবনটির একপাশের ছাদ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। তখন ভবনের ভেতরে ১৫-২০ জন উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে দারগাহর ইমামও ছিলেন বলে জানিয়েছেন তারা।

দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ধসে পড়া অংশটি ২৫ থেকে ৩০ বছরের পুরোনো। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মৌসুমি বৃষ্টির ফলে সমাধিক্ষেত্রের গম্বুজের কাঠামো দুর্বল হয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া, রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো না হওয়া কিংবা কাঠামোগত কোনও ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধি ১৫৬২ সালে তার স্ত্রী হামিদা বানু বেগমের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়। বেলেপাথরে তৈরি এই স্থাপনাটি নকশা করেছিলেন বুখারার স্থপতি মির্জা গিয়াস।

মুঘল ইতিহাসে এটিই প্রথম উদ্যান-সমাধিক্ষেত্র, যা পরবর্তীতে তাজমহলসহ বহু মুঘল স্থাপত্যে প্রভাব রেখেছে।

সমাধিক্ষেত্রটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। পুরাতত্ত্ববিদরা একে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করেন।

১৫২৬ সালে প্রথম পানিপথের যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে হারিয়ে বাবর দিল্লি দখল করেন। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যেই বাবরের মৃত্যু হয়, সিংহাসনে আসেন তার ছেলে হুমায়ুন।

শের শাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছাড়তে হলেও শের শাহের মৃত্যুর পর হুমায়ুন পুনরায় দিল্লি দখল করেন।

১৫৫৬ সালে তার মৃত্যু হলে ১৫৬২ সালে পুরানা কিল্লার কাছেই এই সমাধি নির্মাণ শুরু হয়। সেই সময় থেকে এটি দিল্লির অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930