ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেম, এরপর গোপনে বিয়ে। সেই বিয়ে ঘিরে দুই মাস হাজতবাসের পর এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন চট্টগ্রামের যুবক পারভেজ চৌধুরী (২৪)।
অভিযোগ রয়েছে, মীমাংসার কথা বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে জোর করে বিষ খাইয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ ভিসা অফিস এলাকার লুৎফর শিকদারের বাড়িতে।
পারভেজ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উত্তরমঙ্গল গ্রামের মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। তার স্ত্রী চাঁদনী আক্তার লতা (১৮) ওই এলাকার লুৎফর শিকদারের মেয়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পারভেজ জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফেসবুকে লতার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চলতি বছরের ২১ এপ্রিল তারা গোপনে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানার পর পারভেজের পরিবার বিয়ে মেনে নিলেও লতার বাবা তা মানেননি।
লতার বাবা প্রথমে বিয়ে মেনে নেওয়ার কথা বললেও পরে কোতোয়ালি থানায় অপহরণের মামলা করেন। এতে পারভেজ ও তার বাবাকে আসামি করা হয়। দুই মাসের বেশি হাজতবাস শেষে পারভেজ জামিনে মুক্তি পান।
সম্প্রতি মামলা নিষ্পত্তি ও মীমাংসার কথা বলে তাকে আবার যশোরে ডেকে আনা হয়। শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তিনি মামলা তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলে শনিবার সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুর লুৎফর শিকদার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তাকে ঘাস মারার বিষ খাইয়ে দেন বলে অভিযোগ।
পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে চিকিৎসকরা ঢাকায় পাঠান। সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ওবায়দুল কাদের উজ্জ্বল জানান, পারভেজের শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া বাঁচানো কঠিন হবে।
এদিকে শ্বশুর লুৎফর শিকদারের বিষয়ে জানতে চাইলে তার স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “পারভেজ কী খেয়েছে তা জানি না। শুধু গায়ে গন্ধ পেয়ে থানায় নিয়ে যাই।”
যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই আব্দুস সবুর বলেন, “খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”










