নির্মাণের এক যুগ পার হলেও এখনও চালু হয়নি ঢাকার ধামরাইয়ের ২০ শয্যার অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল ট্রমা সেন্টার। সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিনেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারা।
দেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। প্রায়ই এ সড়কে ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রায় ১৩ বছর আগে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে নির্মাণ করা হয় ২০ শয্যার অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল ট্রমা সেন্টার।
তবে জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন জটিলতায় এখনো হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে চিকিৎসাসেবার জন্য স্থানীয়দের ঢাকামুখী হতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ধামরাইয়ের এই ট্রমা সেন্টারটি প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এটি চালুর জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ট্রমা সেন্টারের বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। তাই দ্রুত সংস্কার ও কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাসেল আহমেদ বলেন, “দুর্ঘটনার পর ধামরাইয়ে চিকিৎসা সুবিধা না পেয়ে আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।”
ধামরাই নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি নাহিদ মিয়া বলেন, “এই ট্রমা সেন্টার চালু হলে ধামরাইসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ উপকৃত হবে এবং অনেকেই পঙ্গুত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।”
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আহমেদুল হক তিতাস বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। জেলা প্রশাসন থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ট্রমা সেন্টারটি চালুর বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “চলতি অর্থবছরেই প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে এবং এটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
ট্রমা সেন্টারটি চালু হলে ধামরাইসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ স্বল্প খরচে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।









