ঢাকার সাভার এলাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে সোমবার (১৬ মার্চ) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শারমীন জাহান খাদিজা (২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। গ্রেপ্তার ফাহিম আল হাসান (২২) মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে এবং ঢাকা কলেজ-এর অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে নিহতের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার সকালে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন শারমীন ও ফাহিম বিয়ে করেন এবং পরে বিষয়টি পরিবারকে জানান। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তারা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন শারমীন।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম ফোন করে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান, শারমীন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমীনের কপালের ডান পাশে এবং মাথার ওপর গভীর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, ফাহিম আল হাসান অজ্ঞাত সহযোগীদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শারমীনকে হত্যা করেছেন।
এদিকে এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
জাকসুর সহসভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শারমীনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা, সেই সঙ্গে বাসা থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।










