ঢাকার আশুলিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিনকে তার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও আক্রোশের জেরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম (২৭) গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পদ্ধতি সম্পর্কে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, শিশু তাসিনের বাবার সঙ্গে সাইফুল ইসলামের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। একসঙ্গে চলাফেরার সূত্রে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রোশ তৈরি হয়। মূলত সেই আক্রোশ থেকেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য ও ঘর থেকে উদ্ধার করা আলামত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শিশুটির মুখের ভেতর চাল ভরে দেওয়া হয়েছিল। পরে স্কচটেপ দিয়ে তার মুখ ও নাক পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তের সময় সাইফুলের ঘর থেকে স্কচটেপ, ইলাস্টিক ও চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রীর সঙ্গে মিলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সাইফুল ইসলামকে দুই দফায় মোট দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে তিনি আদালতে শিশু তাসিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়ার একটি তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু তাসিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ওই দিনই পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।









