টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ভোটারদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। তবে এটিকে অপপ্রচার বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নেতারা। তারা বলেছেন, ভোট চাইতে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাধা দিয়ে তাঁদের মারধর করেন। বাধার মুখে ফিরে আসার সময় পেছন থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টাকা প্রদর্শন করে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার অজুর্না ইউনিয়নের জগতপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াতের নেতারা চলে আসছেন। পেছন থেকে কয়েকজন ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোট দেখিয়ে ‘টাকা দিছে’ বলছেন। তবে জামায়াতের নেতারা কারও হাতে টাকা দিচ্ছেন, এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
অজুর্না ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হাতেম খাঁ বলেন, ‘জগতপুরা গ্রামে জামায়াতের কয়েকজন নেতা ভোটারদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করছেন—এমন খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা সেখানে যান। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তাঁদের বিতরণ করা টাকা কয়েকজন প্রদর্শন করেন—সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।’
উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম তালুকদার বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে তিনিসহ কয়েকজন অজুর্না ইউনিয়নের জগতপুরা মধ্যপাড়ায় টিক্কা খাঁর বাড়ির দক্ষিণ পাশে ভোট চাইতে যান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা নিয়ামত আলী খাঁ, লাবু খাঁ, মোনায়েম খাঁ, নায়েব খাঁ, মো. খলিল, ইসমাইল হোসেনসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন এসে তাঁদের বাধা দেন। তাঁরা জামায়াতের পক্ষ থেকে ভোটারদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করার অভিযোগ করে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাঁর (রবিউল) ওপর হামলা করে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। এ সময় তাঁরা নিজেদের কাছে থাকা ৫০০, ১ হাজার টাকা নোট উঁচু করে ধরে বলতে থাকেন, জামায়াতের পক্ষে টাকা বিতরণ করতে এসেছিল। সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’
প্রচারে বাধা ও হামলার অভিযোগে জামায়াত নেতা রবিউল আলম তালুকদার বাদী হয়ে বিকেলে ভূঞাপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা শাখার সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, ভূঞাপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম তালুকদার।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।










