বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ ভবনের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। পরে এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
এবারের বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা ষাঁড়, ঘোড়া ও পাখিসহ নানা প্রতিকৃতি নিয়ে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, ষাঁড়ের মোটিফ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা বহন করে। পাখির মোটিফ স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা, শান্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক। আর ঘোড়া শক্তি ও বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মুত্তাসিম বিল্লাহ বলেন, বাংলা বছরের প্রথম দিনটি তাঁরা আনন্দ ও আশার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করছেন। নতুন বছরে সব অশুভ শক্তিকে রুখে দিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। পাশাপাশি বাউলসহ সব শ্রেণির মানুষের স্বাধীনভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন।
নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ আলাদা আয়োজন করে। সরেজমিনে দেখা যায়, মহুয়া মঞ্চে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। এ ছাড়া সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করে।
শোভাযাত্রা শেষে সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদ্যাপন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দিয়ে আসছে, যা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই ঐতিহ্য ধারণ করে, সেই প্রত্যাশা জানান তিনি।
নববর্ষ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামালউদ্দিন বলেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয়ভাবে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন করা হয়। এবারও বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠন মিলিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। নতুন বছরটি সবার জন্য আনন্দময় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শোভাযাত্রায় সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন বাবরসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।










