ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হকার ইস্যু। ‘হকার পুনর্বাসন’-এর ব্যানারে সরকারি জমি দখল, টিনের বাউন্ডারি ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সাভার বাসস্ট্যান্ডের নিউমার্কেট, চৌরঙ্গী সুপার মার্কেটসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন হকাররা। এতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছিল তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি। কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে।
পরে রোববার গভীর রাতে বাসস্ট্যান্ডের পাশে মডেল মসজিদ সংলগ্ন সরকারি জায়গায় চৌকি বসিয়ে পুনরায় বসার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় একদল হকারকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও মূলত সরকারি জায়গা দখলের উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলচেষ্টা বন্ধ করে দেয়।
ভূমি অফিসের অভিযোগে বলা হয়, হর্টিকালচার সেন্টার ও রাজালাখ ফার্ম এলাকার প্রায় ২ একর ১৭ শতাংশ সরকারি জমিতে সংঘবদ্ধভাবে ঢুকে প্রায় ১০০ ফুট টিনের বাউন্ডারি ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ভাঙা টিন নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালন করতে গেলে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি প্রশাসনের।
ভূমি প্রশাসন জানিয়েছে, ওই জমিতে ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও নতুন উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই কোনোভাবেই সেখানে অবৈধ দখল মেনে নেওয়া হবে না।
সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি দখল কিংবা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।










