জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাভারে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নীতি সংলাপের বক্তারা। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানা ও আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ‘সোলার পল্লী’ গড়ে তোলার প্রস্তাবও উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিজয়-৭১ সভাকক্ষে ‘জ্বালানির জন-মালিকানা: বাংলাদেশের ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক এ স্থানীয় নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি), শীল্ড, কেএইচআরডিএস ও স্রোতের যৌথ উদ্যোগে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় সংলাপের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন শীল্ডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম ফিরোজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত সিরাজ। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন কেএইচআরডিএসের সভাপতি খন্দকার ফজিলাতুন নেসা। এ সময় সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ হিসেবে দেখলে হবে না, এটিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় উদ্যোগে পরিণত করা গেলে স্বনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে সবার আগে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার টেকসই হবে না।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের উন্নয়নের প্রচলিত ধারা পরিবর্তন করে অধিকারভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দারিদ্র্যের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাজারের সরবরাহের চেয়ে মানুষের মধ্যে চাহিদা সৃষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, মানুষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা তৈরি হলে বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই সেই চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসবে।
সংলাপে বক্তারা শিল্প-কারখানা ও আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘সোলার পল্লী’ গড়ে তোলাসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।









