| | |

আশুলিয়ায় হকার-আনসার সংঘর্ষ, আহত ১৫

নাজমুল হুদা

সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা ইপিজেড ও বলিভদ্র এলাকায় হকারদের সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ অন্তত ১৫ জন হকার আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর হকাররা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা ইপিজেড ও বলিভদ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় হকারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা মহাসড়কের পাশের ফুটপাত এলাকায় পণ্য বিক্রি করে আসছেন। সম্প্রতি ঢাকা ইপিজেডে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্যরা তাদের ব্যবসা করতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। রোববার হকারদের সরিয়ে দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হকারদের অভিযোগ, আনসার সদস্যদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের পর হকাররা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে।

আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, হকারদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হকারদের উচ্ছেদ বা সরিয়ে দিতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতি প্রয়োজন। আনসার সদস্যদের এককভাবে এমন অভিযান পরিচালনার অনুমোদন ছিল না।

তিনি বলেন, আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রশাসন সেখানে একটি অভিযান পরিচালনা করেছিল। এরপর মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে হকারদের শৃঙ্খলার সঙ্গে বসার বিষয়ে বেপজা প্রশাসন মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছিল।

তবে আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইপিজেড এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হকারদের সরিয়ে দেওয়ার পর তারা আবারও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে হকাররা আনসার সদস্যদের ওপর হামলা করেন।

হকারদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে আনসার বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কোনো আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চাকরি থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ