ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুতের মিটার চুরি করে বিকাশে টাকা দাবি করা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে শিল্প পুলিশ-১।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ঘোড়াপীর মাজারসংলগ্ন সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে মো. সবুজ মিয়া ওরফে ‘মিটার সবুজ’ (২৫) এবং একই উপজেলার রেহাই পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মোল্লার ছেলে মো. মারুফ মোল্লা (৩৫)। তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই বিদ্যুৎ মিটার, দুটি মুঠোফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে মিটার চুরি করে আসছিল চক্রটি। মিটার চুরির পর সেটি আশপাশে কোথাও লুকিয়ে রেখে ঘটনাস্থলে একটি চিরকুট রেখে যেত তারা। ওই চিরকুটে একটি বিকাশ নম্বর দেওয়া থাকত। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা দর-কষাকষি করে টাকা আদায় করত। টাকা পাওয়ার পর চুরি করা মিটার ফেরত দেওয়া হতো।
গত ৫ আগস্ট রাত ২টা ২৪ মিনিটে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের কারখানার সামনে থেকে একটি বিদ্যুৎ মিটার চুরি হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই ধামরাই থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে শিল্প পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, তদন্তে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহের পর শুক্রবার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা সবুজ ও মারুফ পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। মোটরসাইকেলটি পড়ে গিয়ে দুজনই আহত হন। এ সময় অভিযানে থাকা দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন।
জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ মিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে ১৫০ থেকে ২০০টি এবং মারুফ মোল্লা ৬০ থেকে ৭০টি মিটার চুরির কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
শিল্প পুলিশ জানায়, সম্প্রতি যেসব প্রতিষ্ঠানের মিটার চুরি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একমি ল্যাবরেটরিজ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, ইফাদ অটোস, স্টারলিং লন্ডি অ্যান্ড ডেনিমস, কাইজেন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, আয়েশা ক্লোথিং, ইউবেস্ট (বাংলা) ফ্যাশন, টর্ক ডিজাইন ও ফেব্রিলাইফ ফ্যাশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
পুলিশের দাবি, সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত ছয়টি মামলা এবং মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত ১০টি মামলা রয়েছে।
অভিযানে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একটি হেক্সিং মিটার, দুটি মুঠোফোন ও একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।









