সোমবার | ২৫ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৭

সাভারে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নাজমুল হুদা

ঢাকার সাভারে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মামলায় আরও দুই আসামি পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন—সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬), মজিবর রহমান (৪৮) এবং মেহেদী নামে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। মামলার অপর আসামি সাকিব (২০) ও অজ্ঞাত একজন পলাতক রয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, সাকিব গ্রেফতার কিশোরের আপন ভাই।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সবাই ভুক্তভোগী গৃহবধূর প্রতিবেশী। প্রধান আসামি রানা বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে বাসায় রেখে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি মেলায় যান। রাত ৩টার দিকে কয়েকজন মিলে গৃহবধূর কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় এবং কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বিষয়টি আস্তে আস্তে জানাজানি হলে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত রানা বাসায় ফিরলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার পর মামলা দায়ের হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মডেল থানায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর ও পরিবারের সদস্যদের কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তখন পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে ভাড়া বাড়িতে ওই গৃহবধূ চাটাইয়ে ঘেড়া টিউবওয়েলে গোসল করছিলেন। এসময় পাশের রুমের ভাড়াটিয়া রানাসহ প্রতিবেশী আরও দুইজন ওই গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে এবং অপর দুইজন ভিডিও করে। পরে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পূণরায় বুধবার রানাসহ তিনজন গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর বৃহস্পতিবার ওই তিনজনসহ আরও দুই জন মোট পাঁচ ব্যক্তি গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। শনিবার ছয়টার দিকে গৃহবধূ আত্মহত্যা করতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চায়। পরে গৃহবধূ বিষয়টি বিস্তারিত পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে রাত আটটার দিকে পেশায় রাজমিস্ত্রী রানা বাসায় ফিরলে তাকে আটক করে পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়রা জানলে রানাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন গৃহবধূকে ব্লাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টানা ৩ দিন ধর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু মামলায় ১ দিন উল্লেখ করা হলো কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার বিবরণ ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার মা যেভাবে বর্ণনা করেছে মামলাটি সেভাবেই রেকর্ড হয়েছে। আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তারাও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছেন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031