তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন (১৭) নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর সাভারের আশুলিয়া এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন সুমন বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার আশুলিয়ার গরুর হাটসংলগ্ন তুরাগ নদ এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রানাভোলা এলাকায় সুমনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সন্তান হারানোর শোকে পরিবার বাকরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার মরদেহ গ্রহণ করেন তারা।
প্রতিবেশীরা জানান, সুমন কামারপাড়া আড়তে কাঁচামালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে থাকা একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত ভিডিও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের তথ্যমতে, গত ২২ জুন পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন সুমন। পরে তিনি তুরাগ নদে পড়ে যান বলে পরিবার জানিয়েছে। এরপর খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নিহতের বড় ভাই এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। অন্যান্য যেসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এদিকে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে হামলার ঘটনার পর কয়েকজন নেতা-কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন এবং তুরাগ নদ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এ তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুরাগ নদে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ’ শিরোনামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যার বাস্তব কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশও। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২৪ ও ২৫ জুন তুরাগ নদ থেকে মোট তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন রানাভোলার আরিফ হাসান রাকিব, মো. সুমন এবং রাজধানীর মনিপুর মোল্লাপাড়ার রনি মোল্লা। পৃথক ঘটনায় তাদের মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।









