কয়েক দিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নেপালের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি আজ রাত ৯টায় শপথ নেবেন।
রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল, সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল এবং জেন-জি আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র জানায়, সুশিলা কার্কি ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন—তিনি নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন। তার নেতৃত্বে একটি ছোট পরিসরের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, যা আজ শুক্রবার রাতেই প্রথম বৈঠক করবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অন্তর্বর্তী সরকার কেন্দ্রীয় সংসদসহ সাতটি প্রাদেশিক সংসদ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের বিক্ষোভের পর গত বুধবার আন্দোলনকারী জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে সুশিলা কার্কির নাম অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে ঐক্যমত্য তৈরি হয়।
তবে গতকাল বৃহস্পতিবার শোনা যায়, আন্দোলনকারীদের ভেতরে মতভেদ দেখা দিয়েছে এবং নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য পরিচিত প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিঙ্গের নামও অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রস্তাব করা হচ্ছে।
এদিকে ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ—যিনি বেলেন নামেই বেশি পরিচিত—তাকেও প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। আন্দোলনকারীদের বড় অংশের কাছে তিনি জনপ্রিয় হলেও নিজে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদ নিতে আগ্রহী ছিলেন না। বরং তিনি প্রকাশ্যে সুশিলা কার্কিকে সমর্থন জানান।
সুশিলা কার্কি ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি জেন-জি আন্দোলনকারীদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তার নেতৃত্বেই কেপি ওলি সরকারবিরোধী তরুণদের বিদ্রোহ গড়ে ওঠে, যার ফলে ওলি মঙ্গলবার পদত্যাগে বাধ্য হন।
সাবেক এই প্রধান বিচারপতি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি এক ভারতীয় চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেপালকে সহায়তা করতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সূত্র: এনিডটিভি










