বৃহস্পতিবার | ১২ মার্চ, ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২২ রমজান, ১৪৪৭

জবি ছাত্র জোবায়েদ হত্যা

অভিযুক্ত মাহিরকে থানায় সোপর্দ করলেন মা

ডেস্ক রিপোর্ট

ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন মাহির রহমানকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন তাঁর মা রেখা আক্তার। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে তিনি নিজে বংশাল থানায় গিয়ে ছেলেকে পুলিশের কাছে দিয়ে আসেন বলে তাঁদের একজন স্বজন জানিয়েছেন।

খবরটি আজ সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে সাধারণ পাঠকদের মনে কৌতূহল জাগে, মা হয়ে কীভাবে হত্যায় অভিযুক্ত ছেলেকে থানায় সোপর্দ করলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ মাহিরের মাকে ‘সাহসী’ মা হিসেবে আখ্যায়িত করতে দেখা গেছে।

কিন্তু এর পেছনে কী কারণ, তা বেরিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মাহিরের খালু ইমরান শেখ গণমাধ্যমকে জানান, ‘খুনের ঘটনায় মাহিরের সম্পৃক্ততা পেয়ে গতকাল রাত ৩টার দিকে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায়। এই খবর পেয়ে মাহিরের মা রেখা আক্তার আজ (সোমবার) সকালে মাহিরকে নিয়ে বংশাল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর সম্পৃক্ততা না পেয়ে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়।’

তবে মাহিরকে তাঁর মা থানায় সোপর্দ করেছেন— এই তথ্য পুলিশ স্বীকার না করলেও এ হত্যাকাণ্ডে মাহিরসহ তিনজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুল কবীর তরফদার জানান, ‘আমরা এই হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছি। শিগগিরই তা জানানো হবে।’

গতকাল রোববার রাতে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

সহপাঠী ও পুলিশের তথ্যমতে, ভবনটির একটি বাসায় উচ্চমাধ্যমিকের এক ছাত্রীকে পড়াতেন জোবায়েদ। তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বংশাল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ওই ছাত্রীর পাশাপাশি পুলিশের একাধিক টিম রাতে মাহিরের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অভিযান চালায়। পরবর্তী সময়ে মাহিরের মা তাঁকে থানায় দেবে বলে জানান। সেই কথা অনুযায়ী সকালবেলা তিনি ছেলেকে থানায় সোপর্দ করেন।

এদিকে খুনের ১৮ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি। জোবায়েদের পরিবার বলছে, তারা গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে মামলা করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু মামলা করতে পারেনি।

জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা ছাত্রীসহ ছয়জনের নামে মামলা দিতে চেয়েছি। কিন্তু বংশাল থানার ওসি এতজনের নামে মামলা না দেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    3031