মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।ইনহতরা হলেন- পান্নু ও তার ভাই ফজলুর রহমান বাবু। আহত বকের নাম নাজমুল। তাকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা খেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু আতিকা আক্তার ওই গ্রামের দুদুল মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল আতিকা। কিছু সময় পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এলাকায় মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট করে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আতিকার চাচাতো ভাই আলী জানান, তাকে প্রতিবেশী নাঈম (১৫) এর সঙ্গে দেখেছেন। পরে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পাশের একটি ভুট্টা খেতে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ওই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী নাঈমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে নাইমের বাবা পান্নু, ভাই নাজমুল ও চাচা ফজলু রহমান বাবুকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মারধর করতে করতে আতিকাদের বাড়ির সামনের পুকুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুজনের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, গণপিটুনিতে নিহতের মধ্যে একজন নাঈমের বাবা ও চাচা। আর আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিকালের দিকে আতিকা নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরে গাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহটি ভুট্টা খেত থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় আরেকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।’










