কুমিল্লার হোমনায় স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গৃহবধূকে (১৮) ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছে সচেতন মহল। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে জোরালো দাবি উঠেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে পৌর এলাকার কৃষি কলেজের অদূরে এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনজনকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিকটিম নারী ও তার স্বামীর সঙ্গে হোমনা সদরের ভাড়া বাসায় থাকেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা একটি অটোরিকশা নিয়ে তিতাস উপজেলায় বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে কৃষি কলেজ এলাকা পার হওয়ার পর ওপারচর গ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার আশিকুর রহমান (২৪) ও তার ছয়-সাতজন সহযোগী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওই দম্পতির পথ রোধ করেন।
অভিযুক্ত যুবকেরা দম্পতিসহ অটোরিকশাটিকে জোরপূর্বক একটি নির্জন ইটের রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে আশিকুর রহমান ও তার দুই সহযোগী ওই নারীকে স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অন্যরা তার স্বামী ও অটোরিকশার চালককে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় আশিকুর রহমান ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় হোমনা উপজেলাসহ গোটা জেলায় তোলপাড় চলছে। সচেতন মহল এ ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করছেন। ঘটনাটি টক অব দ্যা ডিস্ট্রিক্টে পরিণত হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হোমনা থানার এসআই আনিস উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের জবানবন্দি নিতে পারে। আমরা জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, ‘মূলত বখাটে আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ ধর্ষণকাণ্ড ঘটেছে। এ সময় তার ৬-৭ জন সহযোগী ছিলেন। আমরা তদন্ত করে এবং ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারাও বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিলে রিমান্ড চাইব না। অন্যথায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। মূল ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।’










