ঢাকার সাভারে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সরঞ্জাম লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শামীম রেজাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে আদালত দুই আসামির দুই দিন এবং অপর একজনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়িয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা শামীম রেজা ও ফেরদৌস আহমেদ রাজুর দুই দিন করে এবং রাকিব হোসেনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার শামীম রেজা (৩৫) রাজশাহীর শাহমখদুম থানার ভোলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার সহযোগী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস আহমেদ রাজু (৩০) দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে কাজ করতেন। অন্য আসামি রাকিব হোসেনের (২৪) বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রাজুর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২২ মে সাভারের আইচা-নোয়াদ্দা এলাকায় মাদক কারবার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বেসরকারি এসএ টিভির প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন, দেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন এবং ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মারধর করে জোরপূর্বক একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবহৃত ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, মেমোরি কার্ড, ট্রাইপডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং সংবাদ সংগ্রহে ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর কয়েকজনকে আটক করা হলেও মামলার মূল আসামি শামীম রেজাসহ কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ঢাকা জেলা পুলিশ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বিশেষ টিম এবং কক্সবাজার জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলার ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










