| | |

সাভারে একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক, জঙ্গি সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নাজমুল হুদা

ঢাকার সাভারে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থান থেকে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এবং বুধবার সকালে পার্শ্ববর্তী বনগাঁও ইউনিয়নের গোপেরবাড়ি এলাকা থেকে এসব বিস্ফোরক ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯টি ককটেলসদৃশ বস্তু, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, গানপাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও সাভার থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। রাত পৌনে ২টার দিকে অভিযান শেষ হয়।

এর আগে মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচটি হাতবোমাসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলছে, আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় সিটিটিসির এক উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে বুধবার বিকেলে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।

পুলিশের দাবি, আটক আরিফ হোসেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করছিল। পরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাস থেকে নামার পর তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাঁচটি হাতবোমা, একটি ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ বলছে, বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নয়টি ককটেলসদৃশ বস্তু, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, গানপাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় একটি পাইপবোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বাড়িটির মালিক আব্দুল জলিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। তার মেয়েরা বাড়িটির দেখাশোনা করেন। পরিবারের এক সদস্য জানান, গত ৫ আগস্ট আব্বাস আলী নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি মাসিক চার হাজার টাকায় নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তিনি নিজেকে প্রাইভেটকার চালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ভাড়া নেওয়ার সময় এক হাজার টাকা অগ্রিম দেন। এরপর তাকে দিনের বেলায় আর দেখা যায়নি। রাতে ওই কক্ষে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখার শব্দ পাওয়া যেত বলে জানান বাড়ির মালিকের মেয়ে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, সিটিটিসির সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এদিকে বুধবার সকালে বনগাঁও ইউনিয়নের সাদাপুর গোপেরবাড়ি এলাকার ঘোড়া মসজিদের মাঠ থেকে একটি প্রেশার কুকারসদৃশ বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। ড্রামের ভেতরে কাপড়, একটি কোরআন শরিফ এবং কালো টেপে মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার ছিল। প্রেশার কুকারটির সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারও দেখা যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেশার কুকারসদৃশ বস্তুটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন।

সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি নিরাপদ করে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা এসে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করে।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, পাশাপাশি দুটি এলাকায় বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এসব বস্তু কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি তদন্ত করছে।

এদিকে পরপর বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সাভারের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুরবাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে রাখা ব্যাগ থেকে প্রেশার কুকারসদৃশ বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিষ্ক্রিয় করে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ