সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণে নারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। বিস্ফোরণের পর একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আশপাশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত জয়নব (৫৫) গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। স্বজনরা জানান, মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে পাশের একটি টেইলার্সে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। বিস্ফোরণের সময় কাভার্ডভ্যান থেকে ছিটকে আসা সিলিন্ডার টিনের ছাদ ভেদ করে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বাকি পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা ছয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরে যায়। পরে আগুনের তাপে পর্যায়ক্রমে অন্য সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হয়। এতে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ অন্তত সাত-আটটি গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পাঁচ-ছয়টি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেখতে পান তারা। কাভার্ডভ্যানগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই আশপাশের সবজি বিক্রেতা ও পথচারী। গুরুতর দগ্ধ পাঁচ-ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন।









