মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগে ফের আলোচনায় বড়দেশী
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রাম আবারও আলোচনায় এসেছে বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেন হত্যার ঘটনায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের কয়েকজন স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়দেশীর জনবসতির পাশাপাশি বিস্তীর্ণ বালুর মাঠ, চর ও নির্জন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলে। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা বাড়ে। মাদককে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এবং নানা ধরনের অপরাধ ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আলতাব হোসেন হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং মাদক সেবন ও সরবরাহের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বড়দেশীতে অপরাধের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০০৭ সালে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে র্যাবের এক কর্মকর্তা ও এক কনস্টেবল হত্যার ঘটনাও ঘটে। ২০১১ সালে কেবলার চরে ছয় শিক্ষার্থীকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ওই মামলায় পরে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
সাম্প্রতিক এসআই আলতাব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব জানিয়েছে, গাড়ি পার্কিং ও অটোরিকশা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে হামলার শিকার হন। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরে তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, বড়দেশীর বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোরদের গ্যাংয়ে জড়ানোর কারণ চিহ্নিত করে সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, বড়দেশীর যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হলেও সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।









