| | |

সিন্ডিকেটের তদন্ত কমিটি

জাবি অধ্যাপক জামাল ও ড. শিমুর বিরুদ্ধে গবেষণাপত্রে জালিয়াতি ও ভুয়া পোস্টডক সার্টিফিকেট দিয়ে পদোন্নতির চেষ্টা

জাবি প্রতিনিধি

সহকারী অধ্যাপক ড. শারমীন আক্তার শিমু ও অধ্যাপক জামাল উদ্দীন (রুনু)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শারমীন আক্তার শিমুর বিরুদ্ধে গবেষণাপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর লেখা ব্যবহার, পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে অনিয়ম এবং একই পিএইচডি সময়কাল একাধিকবার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের মধ্যেই তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে তদবির করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দীন (রুনু)।

এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

গতকাল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভায় উপস্থিত একজন সিন্ডিকেট সদস্য জানিয়েছেন।

ওই সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘সিন্ডিকেট গতকাল ড. শারমীন আক্তার শিমুকে পদোন্নতি দেয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আলমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান, সিন্ডিকেট সদস্য ইব্রাহিম হোসেন খান এবং ইউজিসির একজন প্রতিনিধি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ আলী রেজাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

এআই-নির্ভর লেখার অভিযোগ

সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের জার্নাল Jahangirnagar University Environmental Bulletin-এর ভলিউম ৯-এর ৭৭ থেকে ৯১ পৃষ্ঠায় ড. শিমুর ‘Assessing Environmental Sustainability and Market Potential of Jamdani Loom Industry: A Baseline Study in Rupganj and Sonargaon Upazilas, Narayanganj District’ শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গবেষণাপত্রটির ৬২ শতাংশ লেখা এআই-নির্ভর বলে শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণাপত্রটির সহলেখক হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন(রুনু), ইকিউএমএস কনসাল্টিং লিমিটেডের সহকারী পরামর্শক আল-শাহরিয়ার খান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের গবেষণা কর্মকর্তা তাসলিমা জামান।

পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন

ড. শিমুর পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাপানের একটি গবেষণাগারে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের স্বল্পমেয়াদি কাজকে তিনি পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখিয়েছেন। ওই কাজের ক্ষেত্রে কোনো অফার লেটার, অর্থায়নের উৎস বা সম্মানীর তথ্য জমা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সনদপত্রের পরিবর্তে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লো টেম্পারেচার সায়েন্সের অধ্যাপক ড. ইয়োশিতো চিকারাইশির স্বাক্ষরিত একটি ‘প্রত্যয়নপত্র’ জমা দেন ড. শিমু।

ওই প্রত্যয়নপত্রে ২০২২ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতেই সময়কালটিকে গবেষণা অভিজ্ঞতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

একই পিএইচডি সময়কাল ব্যবহারের অভিযোগ

এ ছাড়া একই পিএইচডি সময়কাল একাধিকবার ব্যবহার করে অভিজ্ঞতা দেখানোর অভিযোগও উঠেছে ড. শিমুর বিরুদ্ধে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে তার গবেষণা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের সময় এসব অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন বোর্ডের সভায় তার সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানেই তার গবেষণা, পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞতার সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতেই সিন্ডিকেট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted