ঢাকার সাভার মডেল থানায় যোগদানের প্রথম মাসেই ভালো কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় তাদের পুরস্কৃত করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন। একই থানার আরও ছয় কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে পুরস্কার পেয়েছেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, মাসিক কল্যাণ সভায় জেলার বিভিন্ন থানার কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান ও আসামি গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। এসব কার্যক্রমের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। এবার সাভার মডেল থানার ওসিসহ সাত কর্মকর্তা পুরস্কার পেয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় আট মাসে সাভার মডেল থানার কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের স্বীকৃতি পাননি। নতুন ওসি হিসেবে সাইফুল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মাসেই থানার সাত কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন।
গত ৩১ জুলাই সাভার মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেন সাইফুল আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসের কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে সেপ্টেম্বরের মাসিক কল্যাণ সভায় তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত করা হয়।
পুরস্কার পাওয়ার পর সাইফুল আলম বলেন, ‘দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি থাকাকালীন গত মাসেও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছিলাম। এ মাসে সাভারে যোগদান করে আবারও জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ সুপার ঢাকা মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং সততার সঙ্গে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমে এ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি। এ অর্জন শুধু আমার একার নয়, সাভার মডেল থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’
সাইফুল আলম আরও বলেন, ‘ঢাকা জেলায় যোগদানের পর গত ৮-৯ মাসে চারবার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হওয়ার সুযোগ হয়েছে। এ ধরনের স্বীকৃতি দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।’
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, একটি থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদক ও চাঁদাবাজি দমন, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সাভার মডেল থানার সাম্প্রতিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করেই কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন ও পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়।









