| | |

সাভারে স্ত্রী হত্যা মামলায় ছাত্রদল নেতা রনি গ্রেপ্তার

নাজমুল হুদা

সাভারে স্ত্রী রিয়া মনি হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও সাভার পৌর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি চৌধুরী ওরফে রনি ইসলামকে (২৩) রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রংপুর মহানগরের কোতয়ালী থানার দারোগার মোড় সাতমাথা সবুজপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়া মনি ছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুর রউফ ও মালয়েশিয়া প্রবাসী বিউটি বেগমের একমাত্র সন্তান। প্রায় ছয় বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর দেড় বছর আগে রনি চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সাভারের ছায়াবীথি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। সম্প্রতি বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, গত ৮ জুন সকালে রনিই প্রথম তার মা রিনা আক্তারকে ফোন করে রিয়া মনির মৃত্যুর খবর জানান। পরে রিয়ার মামা সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের খাটের ওপর রিয়া মনির মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের বাবা-মা বিদেশে অবস্থান করায় তার মামা সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রনি চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিয়া মনিকে হত্যা করে আসামিরা বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে রনি চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে গ্রেপ্তারের আগে গণমাধ্যমের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রনি বলেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর ভীত হয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তার দাবি, ৮ জুন ভোরে ঘুম থেকে উঠে পাশের কক্ষে গিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় স্ত্রীকে দেখতে পান। পরে তাকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে রাখেন।

এদিকে, রনি চৌধুরী দাবি করেছেন তিনি ২০২০ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে সাভার পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতারা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, “মামলার প্রধান আসামিকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।”

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ