ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে কর্মচারীদের একটি ভবনে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাত্রিযাপন করেছেন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা রাত দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস না পাওয়ায় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের ভবনেই রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষার্থীরা এ ভূমিকম্পে অনেকটাই ভয়ে আছে। তারা যেহেতু হলে অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছে, উপাচার্য স্যার আমাদের বলেছেন, আপাতত অন্যান্য হলে শিফট করে তাদের রাখার ব্যবস্থা করতে।’
হল পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে সবকিছু ঠিক থাকলে শিক্ষার্থীদের আবার হলে ফিরে আসতে বলা হবে বলে জানান ড. সিরাজুল ইসলাম।
শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের চারতলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে তানজীর হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এই হলের আরও দুজন শিক্ষার্থী ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংলগ্ন ১০ তলা কর্মচারী ভবনে গিয়ে দেখা যায়, যেসব ফ্ল্যাটে কর্মচারীরা নেই, সেসব ফ্ল্যাটে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। যেসব ফ্ল্যাটে কর্মচারীরা আগে থেকে ছিলেন, তাঁরা তাঁদের বাসায় অবস্থান করছেন।
মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মৃত্যুপুরী মুহসীন হলে আর যাচ্ছি না। সিদ্ধান্ত একটাই আসতে হবে, সেটা হলো—আমাদের জন্য মুহসীন হল ব্যতীত অন্য কোনো নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা।’
শুক্রবার ভূমিকম্পে তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয় ছয় শতাধিক মানুষ। ঢাকার বহু ভবনে ফাটল ও হেলে পড়ার ঘটনার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের এ ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশে নরসিংদীর মাধবদীতে।










