গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন রাশেদ খান। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে এক অডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি নিজে দলীয় প্রতীক ট্রাক মার্কায় নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।
এদিকে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় কালীগঞ্জ শহরের প্রধান বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে শহর ঘুরে একই স্থানে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকের পরনে ছিল কাফনের কাপড়। এ সময় তাঁরা রাশেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দেবেন এবং বিএনপির সদস্য পদ গ্রহণ করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে উত্তাল সময়কালে বিএনপির নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদসহ প্রায় ৪২টি রাজনৈতিক দল ও জোট একদফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়। সেই সময় থেকেই ফ্যাসিবাদ–পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছিল। লক্ষ্য ছিল একসঙ্গে নির্বাচন এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে জাতীয় সরকার গঠন করা। যেহেতু আন্দোলনটি মূলত বিএনপির নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে, তাই নেতৃত্বের দায়িত্ব বিএনপিই পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান আরপিএ বিধান অনুযায়ী জোটগতভাবে আন্দোলন করা হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় নিজ নিজ প্রতীকে। ফলে সব এলাকায় সব প্রতীকের পক্ষে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অনেকেই নির্বাচনে জয়ের কৌশল হিসেবে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন, যেহেতু ভবিষ্যতে সবাই মিলে সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, আন্দোলন ও গণ–অভ্যুত্থানের পরবর্তী গত দেড় বছরে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা একই অবস্থানে থেকে কাজ করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে জয়ের কৌশলের অংশ হিসেবে আমাদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে দল থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি গণঅধিকার পরিষদের পদ ছেড়ে বিএনপির সদস্য পদ গ্রহণ করে নির্বাচনে অংশ নেবেন। শিগগিরই দলের সাধারণ সম্পাদক পদে একজনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে।










