সেটা যেন তাদের কাছে দ্বিতীয় বাড়ি। অফিসে যাওয়া, দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা সন্তানদের স্কুল পৌঁছানো— এসব কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে সময় কাটানো হয়ে যায়।
এমনকি অনেক সময় গাড়িতেই খাবার খাওয়া বা কাজ করার অভ্যাস গড়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গাড়ির ভেতরে নানান ধরনের জিনিস জমে যায়।
তবে রাতে যখন অবশেষে গাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকা হয়, তখন প্রায়ই দেখা যায় কিছু জিনিস গাড়িতেই থেকে গেছে।
তবে কয়েকটি সাধারণ জিনিস গাড়িতে রাতভর পড়ে থাকলে হতে পারে বিপদ।
এতে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, নষ্ট হতে পারে গাড়ির দামি জিনিসপত্র বা তৈরি হতে পারে বাড়তি খরচ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিলাশবহুল গাড়ি সংগ্রাহক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ম্যানি খোশবিন এবং ‘শ্যান্টেইজ ইয়োর স্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা শান্টে ডাকওয়ার্থ জানিয়েছেন, গাড়িতে রাতভর কোন কোন জিনিস রাখা উচিত নয়।
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও বীমা কাগজপত্র
অনেকেই গাড়ির গ্লভবক্সে রেজিস্ট্রেইশন ও বীমার কাগজপত্র রেখে দিতে অভ্যস্ত।
তবে ম্যানি খোশবিন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “রাতে গাড়ি লক করা বা কোথাও গিয়ে পার্ক করে যাওয়ার আগে এগুলো অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ এই কাগজপত্রে থাকে বাড়ির ঠিকানা। গাড়ি যদি কখনও চুরি হয়, তবে চোরেরা সহজেই বাড়ি পর্যন্ত চলে আসতে পারে। শুধু তাই নয়, এই তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় চুরিও (আইডেন্টিটি থেফট) ঘটতে পারে।”
তাছাড়া গাড়ি হারানো গেলে, প্রয়োজনীয় কাগজগুলোও গাড়ির সাথে হারিয়ে যাবে, তখন প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতেও সমস্যায় পড়তে হবে।
সানগ্লাস
দিনের বেলায় ব্যবহারের পর অনেকে সানগ্লাস গাড়িতে ফেলে রাখেন।
তবে ম্যানি খোশবিন সতর্ক করে বলেন, “এটি চোরদের জন্য যেন এক ধরনের আমন্ত্রণ। বিশেষ করে যদি এটি হয় কোনো দামি ব্র্যান্ড বা ডিজাইনার সানগ্লাস। গাড়ির ভেতর পড়ে থাকা এই ধরনের জিনিস চোরদের সহজেই আকৃষ্ট করে এবং জানালা ভেঙে প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ায়।”
খাবার
দীর্ঘ যাত্রায় বা কোনো কারণে পথে অনেক সময় গাড়িতেই খাবার খাওয়া হয়। তবে খাওয়ার পর যদি খালি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বক্স বা পানীয়ের ক্যান ফেলে রাখা হয়, তা গাড়ির ভেতর বাজে গন্ধ ছড়ায়।
ম্যানি খোশবিনের মতে, “এসব খাবারের গন্ধ শুধু গাড়ি দুর্গন্ধময়ই করে না, পাশাপাশি ইঁদুর কিংবা পোকামাকড়ের মতো ক্ষতিকর প্রাণীকেও আকর্ষণ করতে পারে। ফলে গাড়ির ভেতরে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।”
পানির বোতল
পেশাদার অর্গানাইজার শান্তে ডাকওয়ার্থ একই প্রতিবেদনে বলেন, “অনেকেই গাড়ির ট্রাঙ্কে পুরো কেস ভর্তি প্লাস্টিকের পানির বোতল রেখে দেন। প্রথম দেখায় এটি ক্ষতিকর মনে না হলেও, বাস্তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ।”
গরম বা ঠাণ্ডায় প্লাস্টিক দ্রুত ভেঙে যায় এবং সেই সঙ্গে পানিও নষ্ট হয়ে যায়। এতে শুধু দুর্গন্ধ তৈরি হয় না, বরং প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে পানিকে বিপজ্জনক করে তোলে।
এই পানি পান করলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইলেক্ট্রনিক্স
ল্যাপটপ, হেডফোন বা চার্জার—এসব জিনিস কখনই গাড়িতে রাতভর রাখা উচিত নয়।
শান্তে ডাকওয়ার্থের মতে, “এগুলো চোরদের প্রধান লক্ষ্য। শুধু তাই নয়, তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ব্যাটারি ও তারের ক্ষতি হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রচণ্ড গরম বা ঠাণ্ডায় রেখে দেওয়া ল্যাপটপ হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তাই গাড়ি থেকে নামার সময় সব এই ধরনের যন্ত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।”
রসিদ, ইনভয়েস ও ডাকপত্র
কখনও হয়ত বিল পরিশোধের জন্য বা মনে করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ির কনসোলে রসিদ রেখে দেওয়া হয়।
শান্তে ডাকওয়ার্থের মতে, “এটি পরিচয় চুরির ঝুঁকি বাড়ায়। এসব কাগজে থাকে নাম, ঠিকানা এমনকি ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্যও। ফলে এগুলো অপরাধীদের হাতে পড়লে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।”
সানস্ক্রিন
দিনের বেলায় বাইরে বের হলে অনেকেই গাড়ির ভেতর সানস্ক্রিন রেখে দেন। তবে এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।
কারণ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং সেই কারণে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে পরে ব্যবহার করলে এটি আর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সঠিক সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয় না।
ব্যায়ামের পোশাক
জিম সেশনের পর ভেজা ও ঘামযুক্ত পোশাক গাড়িতে ফেলে রাখলে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
শান্তে ডাকওয়ার্থ সতর্ক করে বলেন, “এর ফলে শুধু দুর্গন্ধই হয় না, বরং পোশাকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে পোশাক ফেলে রাখলে গাড়ির ভেতরটাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”









