অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যখ্যাত চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদ জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এদিকে অভিযান শেষে ওই এলাকায় যৌথবাহিনীর ক্যাম্প বসানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযান ঠেকাতে সড়কে ট্রাক ফেলে প্রতিবন্ধকতা তিরি ছাড়াও সন্ত্রাসীরা ভেঙে ফেলে একটিনকালভার্ট।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের তিন হাজারের বেশি সদস্য ভূমি এবং পরিবেশ সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে অংশ নিয়েছে। অনেকগুলো টিম ভাগ হয়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে এ এলাকায় যৌথবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
এদিকে অভিযানের খবর আগে থেকেই পেয়ে যাওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অনেকে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যৌথ বাহিনীর সদস্যদের গতি রোধ করতে জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরের রাস্তায় ট্রাক বিকল করে ফেলে রাখা হয়। এছাড়া ভেঙে দেওয়া হয় কালভার্ট। এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যদের পৌঁছুতে হয়েছে অসংখ্য পাহাড়বেষ্টিত দুর্গম এলাকাটিতে।
আগেই সন্ত্রাসীরা অভিযানের বিষয়টি টের পেয়েছিল কিনা জানতে চাইলে এডিশনাল ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, এটি অনেক বড় একটি অভিযান। বিভিন্ন বাহিনীর ৩ হাজারের বেশি ফোর্স রয়েছে। খবর যেতেই পারে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি যাতে তারা খবর না পায়। আপনারা জানেন পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সিএনজি চালক থেকে শুরু করে প্রত্যেক মোড়ে তাদের সোর্স রয়েছে। তারা এটাকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলেছে।
অভিযানে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, এখানে দুটি এলাকা। একটি ছিন্নমূল, অন্যটি আলী নগর। ছিন্নমূল যেখানে শেষ হয় এবং আলী নগর যেখানে শুরু সেখানে তারা (সন্ত্রাসীরা) সম্ভবত রাতের আঁধারে একটি বড় ট্রাক অকেজো করে রাস্তা বন্ধ করে রাখে। তার ২০ গজ পরে একটি খালের ওপর থাকা কালভার্ট সম্ভবত রাতে বা ভোরে ভেঙে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি যাতে যেতে না পারে , অভিযান যেন ফলপ্রসূ না হয় সেজন্য তারা বাধার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে খাল ইট-বালি দিয়ে ভরাট করে যানবাহন প্রবেশ করানো হয়।
চট্টগ্রাম নগরী, সীতাকুণ্ড ও হাটহাজারী উপজেলা সংলগ্ন পাহাড়-জঙ্গলঘেরা জঙ্গল সলিমপুরের নামের প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব। এলাকাটিতে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারে না। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে এয়াছিন ও রোকন বাহিনী এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে গত জানুয়ারিতে র্যাবের একজন উপসহকারী পরিচারককে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল।










