কক্সবাজারে বাড়িতে ঢুকে নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অপহরণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের সঙ্গে অস্ত্রধারীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে র টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে পশ্চিম লেদা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অপহরণকারীরা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বেলা তিনটা পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অপহৃত ওই ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম পশ্চিম লেদা গ্রামের শামশুল আলমের ছেলে। তার বাড়ির পাশে লেদা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-২৪)। এ শিবিরে ২৫ হাজার রোহিঙ্গার বসবাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা নুরুল ইসলামকে অপহরণ করেছেন।
পুলিশ জানায়, নূরুল ইসলাম রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে খাবার পানি সরবরাহ করেন। পানি সরবরাহ নিয়ে তাঁর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে নুরুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয়। তারা ফাঁকা গুলিবর্ষণের পর ঘরের টিনের ছাদ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে নুরুল ইসলামকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনেন। এ সময় নুরুল ইসলামের স্ত্রী, মা ও সন্তানদেরও মারধর করে সন্ত্রাসীরা। পাশাপাশি ঘরের আসবাব ভেঙে নগদ টাকাসহ মূলবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।
অপহৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কামাল হোসেন বলেন, রাতে হঠাৎ একদল অস্ত্রধারী তাঁদের বাড়িতে এসে কয়েকটি গুলি ছোড়ে। এরপর ঘরের ভেতরে ঢুকে তাঁর বাবাকে মারধর করতে থাকে। ঘরের ভেতরেও তিনটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, ‘অপহরণের নেপথ্য কী ঘটনা, তার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তাঁকে উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।’
আশ্রয়শিবিরটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অন্ধকারের মধ্যেই সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’










