বৃহস্পতিবার | ১২ মার্চ, ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২২ রমজান, ১৪৪৭

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত

পাকিস্তানে অভিযানে নিহত জঙ্গিদের দলে মাদারীপুরের যুবক

ডেস্ক রিপোর্ট

নিহত ফয়সাল

পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত হয়। এদের মধ্যে ছিল ফয়সাল হোসেন মোড়লও। দর্শখেলের শাহ সেলিম থানার কাছে সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানে ওই যুবক নিহত হয়। গতকাল রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানাজানি হয়।

নিহত ওই যুবকের যাওয়ার কথা দুবাই, অথচ পাকিস্তানে গিয়ে যোগ দেয় নিষিদ্ধি জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক ই তালিবান’-এ। পরে এই জঙ্গি সংগঠনের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে সেখানকার সেনাবাহিনীর হাতে গুলিতে নিহত হয় বাংলাদেশি এক যুবক। তার বাড়ি মাদারীপুরের ‘ছোট দুধখালী গ্রামে’। ফয়সাল মোড়লের মৃত্যুর খবরে পরিবারে চলছে মাতম। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি স্বজনদের।

দেশ ছাড়ার আগে রাজধানী ঢাকার জগন্নাথপুরের বিভিন্ন মসজিদের সামনে আতর বিক্রি করতো ফয়সাল। মা-বাবা কিংবা আত্মীয় স্বজন, আর পাড়া-প্রতিবেশিও জানতো না পাকিস্তানে গিয়ে গুলিতে নিহত হবে ২১ বছরের ফয়সাল। আদরের সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারে মাতম।

স্বজনরা জানায়, হিজামা সেন্টারে চাকরির জন্য দুবাই যাচ্ছেন জানিয়ে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দেশ ছাড়েন ফয়সাল। গত কোরবানির ঈদের আগে তার সাথে পরিবারের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর ফয়সালের আর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে ‘খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায়’ পাকিস্তানী নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত হয়। এর মধ্যে মারা যায় বাংলাদেশি যুবক ফয়সাল। তার পড়নের পোষাক থেকে থেকে আইডি কার্ড, টাকা এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট উদ্ধার করে সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পরে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় নিহতদের ছবি। সেই ছবি দেখে ফয়সালের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় পরিবার।

জানা যায়, নিহত ফয়সাল মোড়ল মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট দুধখালী গ্রামের আব্দুল আউয়াল মোড়লের ছেলে। বাবা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ইলেক্ট্রিশিয়ান এবং বড় ভাই আরমান হোসেন দারাজের ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করেন। মা চায়না বেগম গৃহিণী।

ফয়সালের মা চায়না বেগম বলেন, ‘আমার আদরের ফয়সাল দুবাই যাওয়ার কথা বলে পাকিস্তানে গিয়ে নিহত হবে এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। ফয়সাল খপ্পরে পড়ে এমন হত্যার শিকার হয়েছে।’

ফয়সালের চাচা আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমরা দ্রুত ফয়সালের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। আর ফয়সালকে যারা পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করিয়েছে তাদের বিচার দাবি করছি।’

স্থানীয়রা জানায়, আতর বিক্রি করে পরিবারের টাকা পাঠাতো ফয়সাল। যা দিয়ে স্বচ্ছভাবে চলতো পরিবার। ধারণা করা হচ্ছে, রাজধানী ঢাকায় একটি চক্রের সাথে মিশে পাকিস্তানে যায় ফয়সাল। পরে যোগ দেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিবার চাইলে নিহতের লাশ দেশে ফেরত আনতে সহযোগিতা করা হবে। আর কেউ যাতে এমন সংগঠনে আর যুক্ত হতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক পরিবারের পাশে সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    3031