কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত বেঁধে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম বজলুর রহমান, তিনি শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর দিবাগত রাত একটার দিকে স্থানীয় লোকজন অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ওই প্রবাসীর স্ত্রী ও বিল্লাল হোসেন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ইউপি সদস্য বজলুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে হাত বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করেন।
দুই মিনিট ৫৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইউপি সদস্য বজলুর রহমান ওই নারীর দুই হাত বেঁধে পেটাচ্ছেন, এ সময় তিনি চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। একপর্যায়ে তাঁর চুল ধরে টানাহেঁচড়া ও গালমন্দও করা হয়।
এরপর পরদিন, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বজলুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে এক সালিস বৈঠক বসে। সেখানে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর প্রবাসী স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানো হয় এবং আটক বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর দুই ছেলে রয়েছে, ছোট ছেলের বয়স তিন বছর। অন্যদিকে, বিল্লাল হোসেনের প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার মেয়ে রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বলেন, ‘ওই নারী আমার ভাতিজার স্ত্রী। আট বছর ধরে তাঁর সঙ্গে বিল্লালের সম্পর্ক ছিল। স্থানীয়রা তাঁদের হাতেনাতে আটক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি ভাতিজার স্ত্রীকে চিকন লাঠি দিয়ে চার–পাঁচটি আঘাত করি। কেউ একজন সেই ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘ঘটনার পরদিন প্রায় ৩০০ মানুষ উপস্থিত থেকে সালিসে বিচ্ছেদ ও পুনর্বিবাহের সিদ্ধান্ত নেয়।’
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি কয়েক দিন আগের হলেও মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। ভুক্তভোগী নারী বা তাঁর পরিবার অভিযোগ করতে রাজি নন। তবুও অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বজলুর রহমানকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ইউপি সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডকে ‘বিচারবহির্ভূত নির্যাতন’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।









