ফেসবুকে ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেখে বাসা দেখতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন আনন্দমোহন কলেজের এক ছাত্র। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ কিশোরগঞ্জের দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান ওরফে নাঈম (২৩), আনন্দমোহন কলেজের গণিত বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভূরারবাড়ী গ্রামে। তিনি গুলকিবাড়ী এলাকার ফখরুজ্জামান টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় সাবলেট বাসা দেখতে গেলে চার তরুণী ও চার তরুণের একটি চক্র তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে। অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
মামলার পর পুলিশ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাদিয়া জাহান মেঘলা (২১) ও ফারিয়া আক্তার পায়েল (১৯) নামে দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ফেসবুকে তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক মাহবুব আলম ফকির জানান, গ্রেপ্তার দুই তরুণী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলেও পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের আরও চার পুরুষ ও দুই নারীর সন্ধানে অভিযান চলছে।
বাদীও ছিলেন বিতর্কিত
এদিকে, মামলার বাদী নাজমুল হাসান নিজেও পূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহ নগরীর মীরবাড়ি এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। অভিযোগ ছিল, তিনি ফেসবুকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করতেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তাঁর কাছে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুব আলম বলেন, মামলার বাদী সম্পর্কে ফেসবুকে তথ্য দেখে তাঁর আগের মামলার বিষয়টি জানা যায়। তবে মামলা দায়েরের সময় এ তথ্য জানা ছিল না। বাদী বর্তমানে ফোন বন্ধ রেখেছেন। তাঁর বিষয়েও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে।










