আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলার শিকার হওয়া নারী সালমা ইসলামকে পরদিন এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে ধানমন্ডি থানা–পুলিশ সালমা ইসলামকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পার্থ ভদ্র তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সালমার আইনজীবী আবুল হোসেন পাটওয়ারী জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন। আইনজীবীর মতে, ৪২ বছর বয়সী সালমা আজিমপুরের বাসিন্দা এবং গৃহিণী।
তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গতকাল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর ওনাকে মারধর করা হয়। পরে কয়েকজন তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেন।’ তিনি আরও জানান, গত বছরের ১৯ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ধানমন্ডিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সালমা ইসলামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার বাদী ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় বাদী গুলিবিদ্ধ হন। মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য–প্রমাণে সালমা ইসলামের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সালমার আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন। হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তি আজ ভুক্তভোগী থেকে আসামি হয়ে গেলেন—এটি অন্যায়।’
সালমাকে কেন এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো—এ প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কয়েকজন সাক্ষী তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন।”










