| | |

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

হাসিবুল হাসান শান্ত

ঈদকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ঘরমুখো ঢল নামার প্রস্তুতি চলছে। তবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় এবারও ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণকাজ চলছে। কোথাও রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি, আবার কোথাও নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণের ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। যদিও কয়েকটি পয়েন্টে যানজট কমাতে ডাইভারশন সড়ক তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৭টি জেলার মানুষের বাড়ি ফেরার অন্যতম প্রধান পথ নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। প্রতি বছর ঈদযাত্রায় এ পথে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে স্বল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়ক ব্যবহার করে আসা পোশাকশ্রমিক সুলতান আনোয়ার বলেন, স্বাভাবিক সময়েই ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে তার দুই ঘণ্টা লেগেছে। ঈদের সময় ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বাসচালক হুমায়ন কবীর জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক সরু হয়ে গেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। পাশাপাশি মহাসড়কে অবাধে চলাচল করা অটোরিকশাও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার দ্বিতীয় দ্রুতগতির উড়ালসড়ক হিসেবে পরিচিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভৌত অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ৫৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে অনুমোদিত এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা এবং মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় দফা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যয় প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্মাণাধীন এলাকায় সাময়িক অসুবিধা হলেও ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ