দৌলতপুর উপজেলা-এর ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তার দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামীম রেজার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শনিবার সকালে শতাধিক মানুষ দরবারের কাছে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দরবারের ভবনগুলোতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ভেতরে থাকা কয়েকজন আহত হন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে দিতে দরবারে প্রবেশ করে এবং একতলা ভবন ও টিনশেড ঘরে ভাঙচুর চালায়। পরে আগুন ধরিয়ে দিলে ফায়ার সার্ভিস এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হলেও জনতার তুলনায় পুলিশ সদস্য কম থাকায় শামীম রেজাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার বলেন, “পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও উত্তেজিত জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।”
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরও দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি, উদীচীসহ বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ‘মব’ সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।










