ঢাকার সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা একাধিক নোটিশে ৯ শিক্ষার্থীকে জরিমানা এবং কয়েকজনকে সতর্কীকরণ প্রজ্ঞাপন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোটিশগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ আনা হলেও কোন ধারায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে কিংবা কীভাবে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ধারাবাহিক সিদ্ধান্তে অভিযুক্তদের আর্থিক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক সুবিধা বাতিল এবং জরিমানা আরোপ করা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য, উপাচার্য এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়া আক্তারকে ১০ হাজার টাকা এবং রসায়ন, আইন ও ইইই বিভাগের আরও তিন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে দুই শিক্ষার্থীকে সতর্কীকরণ প্রজ্ঞাপন দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেকা সাত কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল একতরফা ও অস্বচ্ছ। তাদের অভিযোগ, তদন্ত বা শৃঙ্খলা কমিটির কোনো পর্যায়েই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়া আক্তার বলেন, “ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। নোটিশে কোনো আইনি ভিত্তি উল্লেখ নেই। কোন আইনের কোন ধারায় আমাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।”
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তদন্ত কমিটি গঠনের পরও তাকে কোনোভাবে ডাকা হয়নি বা যোগাযোগ করা হয়নি। ফলে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।
জরিমানাপ্রাপ্ত এক শিক্ষার্থী বলেন, “জরিমানা করা হয়েছে, কিন্তু তার ভিত্তি কী, কেউ বলতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞেস করলেও তারা ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরামর্শক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া বাধ্যতামূলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।










