মঙ্গলবার | ৯ জুন, ২০২৬ | ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ২২ জিলহজ, ১৪৪৭

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ

চীনের সঙ্গে দারুণ লড়ে হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক

সিডনির আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় আজ  মহাদেশীয় মঞ্চে প্রথমবারের মতো পা রাখল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রতিপক্ষ ছিল এশিয়ার পরাশক্তি, নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। ফলাফল ০-২ হার, কিন্তু গল্পটা কেবল ব্যবধানের নয়; ৪৬ বছর পর এশিয়ার সেরাদের আসরে ফিরে সাহস, শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাসে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার গল্প।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়াম যার দর্শকধারণ ক্ষমতা ২০ হাজারের বেশি, সেই মাঠে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাংলাদেশ-চীন ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ছয় হাজারেরও বেশি দর্শক। গ্যালারিতে ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। তাদের সামনেই মহাদেশীয় আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ফলাফল ০-২ ব্যবধানে হার হলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

৪৬ বছর পর এশিয়ান ফুটবলের মূল আসরে বাংলাদেশের উপস্থিতি। ১৯৮০ সালে পুরুষ দল খেলেছিল সর্বশেষ এশিয়ান কাপে, আর নারী দলের জন্য এটি ছিল প্রথম অভিষেক। প্রতিপক্ষ ছিল এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল, নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। সেই শক্তির বিপক্ষেই সমানতালে লড়াই করে নজর কাড়লেন আফঈদা, ঋতুপর্ণারা।

ম্যাচের শুরুতে দুই দলের দক্ষতায় তেমন পার্থক্য চোখে পড়েনি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা ও গতি-শক্তিতে চীনের প্রাধান্য স্পষ্ট হতে থাকে। শুরুর সাত মিনিটেই তিনটি আক্রমণ সাজায় তারা। ১২ মিনিটে ওয়াং সুয়াংয়ের শট গোলরক্ষক মিলি আক্তার ঠেকালেও ফিরতি বলে তার হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়।

১৪ মিনিটে বাংলাদেশের সেরা সুযোগ আসে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার বাঁ পায়ের শট গোলপোস্টে ঢোকার আগমুহূর্তে দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন চীনের গোলরক্ষক চেন চেন। ১৮ মিনিটে ওয়াং সুয়াংয়ের আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন মিলি, আর পোস্টে ঢোকার আগে ডাইভ দিয়ে বিপদ সামাল দেন ডিফেন্ডার শিউলি আজিম।

২৪ মিনিটে চীন গোল পেলেও ভিএআরের সহায়তায় সেটি বাতিল হয়। বাঁ দিক থেকে জিন কুনের আড়াআড়ি পাস পেয়ে ওয়াং সুয়াং হেডে বল জালে জড়ালেও রিপ্লেতে অফসাইড ধরা পড়ে। মাঠের রেফারি পানসা চাইসেইন্ট মনিটরে দেখে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

তবে শেষ দিকে তিন মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওয়াং সুয়াংয়ের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় চীন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

বিরতির পর কোচ পিটার বাটলার দুটি পরিবর্তন আনেন। উমহেলা মারমার জায়গায় নামেন তহুরা খাতুন, শিউলি আজিমের বদলে হালিমা আক্তার। পরে স্বপ্না রানীকেও নামানো হয় আক্রমণে গতি আনতে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল আর হজম না করলেও গোল শোধ করা সম্ভব হয়নি।

ঋতুপর্ণা চাকমা ছিলেন ম্যাচের অন্যতম উজ্জ্বল পারফর্মার। ৪৬ মিনিটে তার ৩৬ গজ দূরের শট পোস্টের পাশ ঘেঁষে বাইরে যায়। ৬৮ মিনিটে চীনের ঝ্যাং চেনগুয়ের শক্ত শট দারুণভাবে রুখে দেন মিলি আক্তার।

ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতা স্পষ্ট ছিল। শারীরিক শক্তি ও গভীর স্কোয়াডের দিক থেকে এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে তারা মাথা উঁচু করে খেলেছেন। ফলাফল জয় না আনলেও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে এই পারফরম্যান্স।

এবার সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। অভিষেক ম্যাচে সাহসী লড়াই ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকতেই পারে!

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930